
পিসি শাশুড়িকে খুন করে গঙ্গায় ফেলার চেষ্টা করতে গিয়েছিলেন মা ও মেয়ে। আহিরীটোলার কাছে কুমোরটুলি ঘাটে ট্রলি ব্যাগ করে দেহ ফেলতে গিয়ে আটক ২ মহিলাকে জেরায় এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
আরতি ঘোষ এবং ফাল্গুনি ঘোষ সম্পর্কে মা মেয়ে। মধ্যমগ্রামের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিদেশপল্লির বাসিন্দা। এখানেই বছর তিনেক ধরে ভাড়া থাকতেন মা-মেয়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন নদিয়ার বাসিন্দা হলেও এই বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসতেন আরতি ঘোষের মেয়ে ফাল্গুনি ঘোষের পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষ। সোমবার রাতে পারিবারিক কোনও বিষয় নিয়ে সুমিতা ঘোষের সঙ্গে ঝামেলা বাধে ফাল্গুনি ও আরতির। পুলিশের অনুমান তখনই সুমিতা ঘোষের মাথায় ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপরেই দেহ লোপাটের চেষ্টা করেন মা-মেয়ে। মঙ্গলবার সকালে গঙ্গার ঘাটে ভারী ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর দেওয়া হয় উত্তর বন্দর থানায়। ট্রলি ব্যাগ খুলতেই ভিতরে মুণ্ডহীন দেহ মেলে। এরপরেই দুই মহিলাকে আটক করে উত্তর বন্দর থানার পুলিশ। মা, মেয়ের কাছ থেকে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ লাইনের কাজীপাড়া স্টেশনের টিকিট মিলেছে। কলকাতায় আসার পর ট্যাক্সি ভাড়া করে প্রথমে প্রিন্সেপ ঘাটে যান। কিন্তু সেখানে তাঁরা দেহাংশ ভরা ট্রলি ব্যাগ ফেলতে পারেননি। এরপর কুমোরটুলি ঘাটে চলে যান। ঘাট সংলগ্ন ঝোপে ব্যাগটি ফেলার তোড়জোড় করতেই জড়ো হয়ে যান স্থানীয়রা। প্রথমে তারা কুকুরের দেহ রয়েছে বলে দাবি করেন। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশ।
মা ও মেয়েকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রুপেশ কুমার জানিয়েছেন সুমিতা ঘোষকে মধ্যমগ্রামের বাড়িতেই খুন করা হয়েছে।
