পেশি-হাড়ের স্বাস্থ্য, খাবারে ম্যাগনেশিয়াম

0
111
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

শরীরের জন্য জরুরি কিছু উপাদান রয়েছে যাদের নাম হয়তো শোনা যায়, কিন্তু তার গুণাগুণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় কম। শরীরের জন্য অতি জরুরি তেমনই এক পুষ্টিগুণ হল ম্যাগনেশিয়াম।

এখন প্রশ্ন হলো এটি শরীরের কেন জরুরি, দৈনিক কতটা প্রয়োজন, না থাকলে কী কী সমস্যা হতে পারে ? আসলে ম্যাগনেশিয়াম হল এক ধরনের খনিজ, যার উপর নির্ভর করে পেশির স্বাস্থ্য, স্নায়ুর স্বাস্থ্য, এমনকি, হাড়ের স্বাস্থ্যও। এ ছাড়া, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়াও অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতি কতটা, তার উপরে। রক্তচাপের উপরেও এর প্রভাব রয়েছে।শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমলে মাথার যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, ক্লান্তি বোধ এবং খিদের বোধ না থাকার মতো সমস্যা হতে পারে।তবে সেগুলি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ মেয়াদে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব তৈরি হলে তা থেকে হার্ট অ্যাটাক,স্ট্রোক, ডায়াবিটিস এবং অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া পেশির ব্যথা, খিঁচুনি, পায়ে সিরসিরানি ভাব, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো সমস্যাও হতে পারে। প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা ম্যাগনেশিয়াম জরুরি?কার বয়স কত, তিনি পুরুষ না মহিলা, তার উপরে নির্ভর করে প্রতি দিন তাঁর শরীরে কতটা ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়োজন।৬ মাসের শিশুর ম্যাগনেশিয়াম দরকার দিনে ৩০ মিলিগ্রাম,৭ থেকে ১২ মাসের শিশুর জন্য ৭৫ মিলিগ্রাম,১ থেকে ৩ বছরের দরকার ৮০ মিলিগ্রাম,৪ থেকে ৮ বছরে ১৩০ মিলিগ্রাম,৯ থেকে ১৩ বছরে ২৪০ মিলিগ্রাম,১৪ থেকে ১৮ বছরে কিশোরের ৪১০ মিলিগ্রাম,১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোরীর ৩৬০ মিলিগ্রাম,১৯ থেকে ৩০ বছরের পুরুষের ৪০০ মিলিগ্রাম,১৯ থেকে ৩০ বছরের মহিলার ৩১০ মিলিগ্রাম,৩১ থেকে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষের ৪২০ মিলিগ্রাম,৩১ থেকে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলার ৩২০ মিলিগ্রাম।

পাশাপাশি,কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ, তিসির বীজ, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, সবুজ শাক-সব্জি, যে কোনও ধরনের ডাল, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস, ডার্ক চকোলেট, চর্বি যুক্ত মাছ, কলা, দুধ, দইয়ে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। শরীরে ম্যাগনেশিয়াম-এর চাহিদা পূরণ করতে এগুলি পরিমাণমতো খেতে পারেন।