রহস্যজনক রেডিয়ো, পূর্ব ভারতের সীমান্তে খোঁজ কেন্দ্রের

0
136
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

পহেলগাঁও হামলার ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার।কিন্তু তার আগেই ভারতের পূর্ব সীমান্তে হ্যাম রেডিয়োর তরঙ্গে ধরা পড়া রহস্যজনক কণ্ঠ, সাংকেতিক বার্তালাপ এবং উর্দু আলাপচারিতা সংশয় তৈরি করেছিল।

দাবি করা হয়েছে,বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে চোরাপথে ভারতীয় হ্যাম রেডিয়োর পরিকাঠামো ব্যবহার করে গভীর রাতে কিছু রহস্যজনক কথাবার্তা চলছিল। খবর পেয়ে সক্রিয় হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বলা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত অকেজো করে দেওয়া হয়েছে হ্যাম নেটওয়ার্কের ,রিপিটার। উল্লেখ্য যেখানে ফোন বা ইন্টারনেট কাজ করে না, তেমন দুর্গম জায়গাতেও হ্যাম রেডিয়োর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন এবং কথোপকথন সম্ভব। দুর্যোগ বা বড় দুর্ঘটনায় যোগাযোগের সব মাধ্যম ভেঙে পড়লে হ্যাম রেডিয়ো সহায়। কিন্তু বিপদে পরিত্রাতা যে নেটওয়ার্ক, তাকে কাজে লাগিয়ে বিপদ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা দিল্লিকে জানানো হয়েছে।রহস্যজনক বার্তার আদানপ্রদান গত জানুয়ারিতে প্রথম টের পান হ্যাম রেডিয়ো চালক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস। অম্বরীশ বলেছেন, ক দিন আগে রাতে হঠাৎ তিনি কিছু মেসেজ পান। কিউআরজ়েড, যার অর্থ, কে বলছেন? এটি হ্যাম যোগাযোগের ভাষা। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি।এই কথোপকথনের রেডিয়ো সংকেত কোন দিক থেকে আসছে, তা নির্ধারণ করার জন্য দিক নির্ণায়ক অ্যান্টেনা বা,ডায়রেকশনাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেন অম্বরীশরা।ওই কথোপকথনে বাংলাদেশি টান ছিল বলে ভারতের পূর্ব সীমান্ত থেকেই খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়। ওই দিক থেকেই রেডিয়ো সঙ্কেত আসছে বলে দিকনির্দেশক অ্যান্টেনায় ধরা পড়ে। তার পরে রেডিয়োর শক্তি ধাপে ধাপে কমিয়ে তাঁরা পরীক্ষা করেন যে, কতক্ষণ পর্যন্ত ওই কথোপকথন ধরা পড়ছে। তাতে দেখা যায়, কলকাতা বা তার উপকণ্ঠে বসে বনগাঁ বা বসিরহাট পর্যন্ত কথা বলার মতো শক্তিতে যখন রেডিয়োকে কাজ করানো হচ্ছে, তখন ওই কথোপকথন ধরা পড়ছে না। কিন্তু শক্তি বাড়িয়ে যোগাযোগের পরিধি সীমান্তের ও পার পর্যন্ত প্রসারিত করলে ওই কথোপকথন ধরা পড়ে যাচ্ছে।

তা থেকেই হ্যাম চালকেরা নিশ্চিত হন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসে কিছু লোক এ সব কথোপকথন চালাচ্ছে। ওই রহস্যময় রেডিয়ো সংকেতের উৎসস্থল খুলনা এবং যশোহর বলেও তাঁরা চিহ্নিত করে ফেলেন।