মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’

0
3
Nasa journey to Mars

Last Updated on by

সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লাল গ্রহের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছে নাসার মঙ্গলযান, পারসিভিয়ারেন্স। গ্রিনউইচ মিন টাইম অনুসারে সকাল ৭টার দিকে ফ্লোরিডা থেকে রওনা দিয়েছে ছ’চাকাবিশিষ্ট এক টন ওজনের যানটি।

মঙ্গলের মাটিতে নামবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা উপলক্ষে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে ভিড় জমিয়ে ছিলেন বিজ্ঞানী এবং উত্‍সাহী মানুষজন। এর আগে তিনবার বাতিল হয়েছে পারসিভিয়ারেন্সের যাত্রা। আসলে পারসিভিয়ারেন্সকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বলা হচ্ছে, মঙ্গল অভিযানের জন্য এত উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আর কোনো যানই তৈরি হয়নি এর আগে। সেদিক থেকে নাসার আগের মঙ্গলযান কিউরিওসিটি’র খামতিগুলো পূরণ করে দিয়েছে পারসিভিয়ারেন্স। এতে যেমন ২৩ টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা আছে, তেমনই রয়েছে মাইক্রোফোন, প্রচুর ছোটখাটো যন্ত্র। যা মঙ্গলের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে কোনো নমুনা সংগ্রহের পর নিজেই প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট পাঠাবে নাসার দপ্তরে। অর্থাত্‍ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কাজ অনেকটা এগিয়ে দেবে পারসিভিয়ারেন্স। এই মঙ্গলযানে একসঙ্গে তেইশ ক্যামেরা লাগানোটাই একটা বড়সড় কাজ ছিল। গোটা অপারেশনের নাম দেওয়া হয়, মাস্টক্যামজেড। পারসিভিয়ারেন্সের অন্যতম মুখ্য কাজ হবে, লাল গ্রহের নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নমুনার জৈব বিশ্লেষণ। জানা গেছে, মঙ্গলের, জেজেরো ক্রেটর, সহজ ভাষায় যা হ্রদ, সেখানে একসময়ে বিপুল জলধারা বয়ে যেত। তার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকায় পলির মতো একটা স্তরও আছে। পারসিভিয়ারেন্স নামবে ঠিক এই অংশের পাশেই। এখানকার নমুনা সংগ্রহ করে তার জৈব ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করবে। আর সেখানেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে না নেই, তার অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।যদি ওই পলিস্তরের মধ্যে কোনো অনুজীবীর বেঁচে থাকারও কোনো উপকরণ মেলে, তাহলে বুঝতে হবে, একদা এই প্রতিবেশী গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল।