৫৪ বছর পর চন্দ্রাভিযানে মানুষ

0
63
ছবি সৌজন্যে : এক্স

দীর্ঘ ৫৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল মানুষ। নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশনে চার নভোচারী এখন মহাকাশে, তারা পাড়ি দেবেন রেকর্ড পরিমাণ দূরত্ব। এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে নামবেন না।১০ দিনের এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রতিটি সিস্টেম নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি ও মঙ্গল অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।

২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে আবার মানুষের পা পড়বে কি না, এ মিশনের সাফল্যই তা নির্ধারণ করে দেবে।এর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে মহাকাশে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ভবিষ্যৎ।আর্টেমিস টু মিশনের চার সদস্যের দলে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।তারা প্রায় ১০ দিনের এই যাত্রায় চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হবে মানুষের দীর্ঘতম মহাকাশ যাত্রা।নভোচারীদের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-টমসন বলেছেন, এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন আর্টেমিস দলের প্রাণশক্তি, আমেরিকান জনগণ ও বিশ্বজুড়ে আমাদের সহযোগীদের সাহসী মনোবল এবং নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্ন। শুভকামনা আর্টেমিস টু, এগিয়ে চলো।যাত্রা শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় মহাকাশযানের কমান্ডার ওয়াইজম্যান তাদের গন্তব্য দেখতে পান। ক্যাপসুল থেকে তিনি বলেন,অপূর্ব এক চাঁদ দেখা যাচ্ছে, আমরা ঠিক সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। এদিকে এ মিশনটি অনেকগুলো প্রথম ঘটনার সাক্ষী। এবারই প্রথম স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা, এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান নভোচারী নিয়ে যাত্রা করল। কারণ, ২০২২ সালে আর্টেমিস ১ মিশনে কোনো মানুষ ছাড়াই রকেটটি একবার চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিল।এছাড়া আর্টেমিস টু মিশনেই প্রথম কোনো মহিলা, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী ও প্রথম কোনো অ-মার্কিন নাগরিক চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটিই প্রথম কোনো শৌচাগার বা টয়লেট নিয়ে চাঁদের চারপাশে যাচ্ছে। ফলে প্রথম-এর তালিকাটি বেশ দীর্ঘ।পৃথিবী থেকে আর্টেমিস টু যত দূরত্ব পাড়ি দেবে সেটিও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। তারা যখন চাঁদের উল্টো পিঠ বা, ফার সাইডে দিয়ে ঘুরে আসবেন তখন পৃথিবী থেকে ইতিহাসের যে কোনো মানুষের চেয়ে বেশি দূরে অবস্থান করবেন এ চার নভোচারী।সেই সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব হবে ৪ লাখ ৬ হাজার ৮৪১ কিলোমিটার, যা ১৯৭০ সালে নাসার অ্যাপোলো ১৩ নভোচারীদের গড়া রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বেশি। অন্যদিকে,আর্টেমিস টুর এসএলএস রকেটটি নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯বি লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আমেরিকার স্থানীয় সময় বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের সোনালী আলো যখন রকেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ওপর পড়ছিল, ঠিক তখনই তা তীরের বেগে আকাশের দিকে ছুটে যায়।ঐতিহাসিক এই দৃশ্য দেখার জন্য ফ্লোরিডার স্পেস কোস্টে প্রায় চার লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল।

উৎক্ষেপণের প্রায় দু’ মিনিট পর এসএলএস-এর দুটি শক্তিশালী সলিড রকেট বুস্টার মূল অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর রকেটের চারটি আরএস-২৫ ইঞ্জিন ওরিয়ন মহাকাশযান ও এর ক্রুদের মহাকাশের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কাজটি শুরু করে।