
শব্দের গতিসীমা পেরিয়ে গেলেও তৈরি হবে না কোনো বিকট আওয়াজ, এমন অনন্য এক প্রযুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো সুপারসনিক ফ্লাইট টেস্টের মুখোমুখি হচ্ছে নাসার পরীক্ষামূলক প্লেন, এক্স-৫৯। জুনের শুরুতে হতে যাওয়া এ ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে শব্দহীন বাণিজ্যিক সুপারসনিক উড়ানের নতুন দুয়ার ওপেন করতে পারে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে নিজেদের শেষ এই সুপারসনিক জেটের পরীক্ষা শুরু করবে নাসা, যা অন্য যে কোনো সাধারণ সুপারসনিক জেটের মতো নয়। সুপারসনিক জেটের প্রচলিত সেই তীব্র বিকট শব্দ ছাড়াই শব্দের গতিসীমা পেরোবে, এক্স-৫৯। জেটটি গত অক্টোবরে নিজের উদ্বোধনী ফ্লাইটের পর থেকে এরইমধ্যে ১৪ বার উড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত যেসব পরীক্ষা চালানো হয়েছে তা ছিল প্লেনটির সাধারণ প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং যাচাইয়ের জন্য। এবার জেটটি দেখাবে শব্দহীন সুপারসনিক উড়ান। এ প্রদর্শনীতে এক্স-৫৯ প্লেনটি প্রায় ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ১৪ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি গতিতে উড়বে।
এ সময় প্লেনটির বড় মাইলফলক ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। নাসার লো বুম ফ্লাইট ডেমনস্ট্রেটর-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার ক্যাথি বাহম বলেছেন, এরপর যা হতে যাচ্ছে, সেখানে এ অনন্য প্লেনটি প্রথমবারের মতো সুপারসনিক গতিতে উড়বে। এক্স-৫৯-কে যে মিশন কন্ডিশন টেস্ট পয়েন্টের জন্য ডিজাইন করেছে, আমরা এখন সেটির দিকেই এগোচ্ছি। উল্লেখ্য, সনিক বুম হল বজ্রপাতের মতো এক ধরনের প্রচণ্ড শব্দ, যা কোনো বস্তু বাতাসের মধ্য দিয়ে শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে চলার সময় তৈরি হয়। এমনটা অনেক জোরালো শব্দশক্তির এক আকস্মিক নির্গমন, যে কারণে শব্দটা এত বিকট হয়।
