করোনার নতুন উপসর্গ

0
36

বদলে যাচ্ছে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি। বিশ্বকে প্রায় থামিয়ে দেওয়া এই ভাইরাস ইদানীং অচেনা নানা উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই কভিড সংক্রমণের ক্ষেত্রে মিলছে নতুন নতুন উপসর্গ। অনেকে হয়তো এসবকে সাধারণ রোগ মনে করে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু এতে করোনা সংক্রমণের মাত্রা ও জটিলতা বাড়ছে। করোনাভাইরাস যখন প্রাথমিকভাবে মানুষকে আক্রমণ করতে শুরু করে, তখন কভিড-১৯ রোগটির উপসর্গ খুব বেশি ছিল না। প্রাথমিকভাবে জ্বর, শুকনো কাশি, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া ইত্যাদিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিছু ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই ছিল না। ধীরে ধীরে উপসর্গের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। কিছুদিন পর কম সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা দিল গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা এবং সর্দি, তীব্র অবসাদ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব বা বমি ইত্যাদি। আর জটিল উপসর্গগুলো হলো,শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া বা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুকে ব্যথা বা চাপ চাপ ভাব প্রভৃতি। কিন্তু কভিড সংক্রমণ এখন আর প্রচলিত সেসব উপসর্গে থেমে নেই, বরং দিন দিন দেখা দিচ্ছে নতুন উপসর্গ।নতুন উপসর্গের মধ্যে আছে ক্লান্তি,কাজকর্মে কোনো আগ্রহ না থাকা।সারাক্ষণ ক্লান্তি ও অবসন্ন ভাব দেখা দেওয়া। সিঁড়ি ভাঙা বা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।চোখে সমস্যা,চোখ লাল হতে পারে অথবা চোখে হঠাৎ প্রদাহ হতে পারে।পেশিতে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, হাত-পা কামড়ে ধরা ইত্যাদি।মুখের ভেতরে লাল র‌্যাশ, ত্বকে লাল লাল দাগ ওঠা, আর্টিকেরিয়া, চিকেন পস্ক, পায়ে নেটের মতো লাল লাল শিরা, সারা গায়ে চুলকানো, রক্ত জমাট বাঁধা ইত্যাদি।খিদে কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।মাঝে মাঝে চোখে অন্ধকার দেখা বা হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য ব্ল্যাকআউট হয়ে যাওয়া। কথাবার্তায় জড়তা আসা বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ চুল পড়ে যাওয়া।নতুন এসব উপসর্গ যদি থাকে, তাহলে এমন ব্যক্তিরা বাড়িতেই আলাদা থাকুন।হোম আইসোলেশন মেনে ২৪ ঘণ্টা ওই রোগীর ওপর নজর রাখুন যে আরো কোনো উপসর্গ বাড়ছে কি না। এর বাইরে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা করোনায় আক্রান্ত হলেও তাদের দেহে কোনো উপসর্গই দেখা দিচ্ছে না।একে বলে এ-সিম্পটোমেটিক।এর আগে জানা গিয়েছিল,করোনায় আক্রান্ত ৪০ শতাংশ মানুষই উপসর্গবিহীন। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গবিহীন কভিড-১৯ রোগী ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।এই শ্রেণির মানুষ জানতেও পারছে না যে তারা করোনাভাইরাস বহন করছে। দুশ্চিন্তা তাদের নিয়েই বেশি,কেননা ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার কারণে তাদের তেমন সমস্যা হয়তো হচ্ছে না।