
সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের সিঙ্গাপুরে রহস্যজনক মৃত্যু তদন্তে এবার নতুন মোড়।আসাম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল গায়কের কাকাতো ভাই সন্দীপন গর্গকে গ্রেফতার করেছে।সন্দীপন আসাম পুলিশ সার্ভিসের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট।
জুবিনের মৃত্যুর সময় তিনি সিঙ্গাপুরে একই প্রমোদ তরীতে উপস্থিত ছিলেন।সন্দীপন এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া পঞ্চম ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে খুন, খুন নয় এমন গুরুতর দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের ফলে মৃত্যু,অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অবহেলায় মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দীপন গর্গ ইঞ্জিনিয়ার। আসামের জোরহাট জেলার বাসিন্দা সন্দীপন অরুণাচল প্রদেশের নেরিস্ট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।পরবর্তীকালে তিনি আসাম পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২১-২২ ব্যাচের এপিএস অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।বর্তমানে তিনি বোকা-চায়গাঁও কো-ডিস্ট্রিক্টে ডিএসপি পদে কর্মরত ছিলেন।তবে শুধু পুলিশি চাকরিই নয় সন্দীপন গার্গের অন্য পরিচয়ও আছে। তিনি মডেলিং এবং অভিনয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে মিস্টার নর্থইস্ট সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।অত্যন্ত নম্রভাষী এবং ক্রীড়ামোদী হিসেবে পরিচিত সন্দীপন প্রয়াত গায়ক জুবিনের সঙ্গে সঙ্গীত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান ৫২ বছর বয়সী জুবিন গর্গের। ইয়ট ভ্রমণে সাঁতার কাটতে নামার পর জলে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, জুবিনের আমন্ত্রণে এটিই ছিল সন্দীপনের প্রথম বিদেশ সফর।জুবিনের মৃত্যুর পর সন্দীপন গায়কের ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ শর্মার কাছে তার ব্যক্তিগত সামগ্রীগুলি চেয়েছিলেন কিন্তু শর্মা জুবিনের ফোনটি দিতে অস্বীকার করেন।এরপর জুবিনের অন্যান্য জিনিসপত্র, যার মধ্যে তার ট্রলি ব্যাগও ছিল তা সিঙ্গাপুর থেকে আসামে ফিরিয়ে আনেন সন্দীপন।গ্রেফতারের আগে টানা পাঁচ দিন ধরে বিশেষ তদন্তকারী দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে সন্দীপন জানিয়েছেন, তিনি এসআইটিকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তার কাছে লুকানোর কিছু নেই।
