নোমোফোবিয়া : ফোন ছাড়া থাকতে ভয় 

0
275
Nomophobia
Nomophobia

সারা দিন পর বাড়ি ফিরে মোবাইল ফোনটি চার্জে দিয়েছেন। কিন্তু এমন জায়গায় ফোনটি রেখেছেন যেন চার্জে বসিয়েও তা হাতের নাগালে থাকে।

স্নানঘরে গিয়েও সেই এক অবস্থা,জরুরি কোনও ফোন আসার কথা হয়তো নেই। কিন্তু স্নান করার ওই সময়টুকুতে যেন কত কী চোখছাড়া হয়ে যাবে? ঘুমোতে যাওয়ার সময়েও তাই।যেন রাতে কেউ যদি নতুন কিছু পোস্ট করে, ঘুমিয়ে পড়লে তা দেখা হবে না। উল্টোদিকে,আশপাশে সুইচবোর্ড নেই।প্রয়োজনে বিছানার একপাশে এক্সটেনশন বোর্ড কিন্তু ফোন হাতছাড়া করা যাবে না, এমন অবস্থা। এই ফোন হাতছাড়া হওয়ার উদ্বেগ, ভয়কে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়,নোমোফোবিয়া বা, নো-মোবাইল-ফোবিয়া।ফোবিয়া’র অর্থ ভয়। এমন কোনও জিনিস যা চোখের সামনে দেখলে বা কোনও ঘটনা ঘটলে মনের মধ্যে উদ্বেগ বা ভয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু মোবাইল হাতছাড়া হওয়ার ভয়? সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খোলা থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত যে বস্তুটি জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে, তা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলে,বন্ধ থাকলে কিংবা কিছুক্ষণের জন্য কাছ ছাড়া হলেও কি মনের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম হয়? মনোবিদেরা বলছেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় সে প্রমাণ মিলেছে। মোবাইলের প্রতি আসক্তি পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষতি করে সেই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এই আসক্তির পিছনে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার কারসাজি এবং অনলাইন গেম। বড়দের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। তাঁদের আবার ফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও নোমোফোবিয়া-র জন্ম দেয়।যার মধ্যে আছে সর্বক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশন চেক করা।কী মেসেজ এল, আদৌ কোনও মেসেজ এল কি না, তাই নিয়ে মনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া।ওদিকে  যত ক্ষণ না হাতে ফোনটি আসছে তত ক্ষণ মনের মধ্যে কী হল, কী হয়ে যাচ্ছে, মনের মধ্যে তা নিয়ে ভয় কাজ করতে থাকে। আবার,ফোনের ব্যাটারি লো সিগন্যাল দেখালে বা বন্ধ হয়ে গেলেই অনেকের প্যানিক অ্যাটাক হয়। কী করবেন ভেবে পান না। অস্থির হয়ে ওঠেন।পাশাপাশি, সারা ক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকতে না পারার উদ্বেগ বেশি দেখা যায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। সারা ক্ষণ মনের মধ্যে অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করতে থাকে। সেইসঙ্গে হাতের কাছে ফোন না থাকার কষ্টে অনেক সময় উইথড্রয়াল সিম্পটমও দেখা যায়। অনিদ্রাজনিত সমস্যা, অবসাদ, খাবারে অনীহা, সারা ক্ষণ খিটখিট করার মতো লক্ষণ দেখা যায়।