
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যকলাপের অভাব শিশুর ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিযোগ,সন্তানদের ওজন ও স্থূলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মা-বাবারও কারণ রয়েছে।তাদের কারণে সন্তানরা কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। আর সে কারণেই সন্তানদের স্থূলতা বৃদ্ধি পায়। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে শিশুদের ওজন কমানো ও স্থূলতা রোধ করা যায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল ও শস্য রাখুন। প্রক্রিয়াজাত ও টিনজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে থাকা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিশুদের যথেষ্ট পরিমাণে জল খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। সেইসঙ্গে পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করান এবং খাবার খাওয়ার সময় স্ক্রিন, অর্থাৎ মোবাইল-টিভি থেকে দূরে রাখুন, যাতে শিশু খাবারে মনোযোগ দিতে পারে।জাংক ফুড এড়িয়ে চলুন। অনেক মা-বাবা শিশুদের আবদারে জাংক ফুড খেতে দেন, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।জাংক ফুডের প্রতি শিশুর আকর্ষণ কমাতে বাড়িতেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প তৈরি করুন।টিভি বা মোবাইলে ফাস্ট ফুডের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের প্রভাব থেকে শিশুকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। অন্যদিকে,শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তাকে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত করা প্রয়োজন।দৌড়ানো, লাফানো, সাইক্লিং, সাঁতার বা খেলার মাঠে খেলতে উৎসাহ দিন।শিশুদের বাইরে খেলতে নিয়ে যান।এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।ওপাশে আজকাল শিশুদের অধিকাংশ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটে। যা স্থূলতার অন্যতম কারণ। শিশুদের মোবাইল বা টিভি দেখার সময়সীমা নির্দিষ্ট করুন। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে তাদের আগ্রহী করে তুলুন।অন্যদিকে,পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিশুকে ঘুমাতে পাঠান। ঘুমের ঘাটতি ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই ঘুমের রুটিন বজায় রাখুন।বাড়িতে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করুন।বাইরের খাবারের বদলে বাড়িতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার রান্না করুন। বেকিং বা গ্রিলিংয়ের মাধ্যমে তেল কমিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করুন। শিশুকে রান্নার কাজে যুক্ত করুন। এতে তার স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।শিশুর মানসিক চাপ বা হতাশাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তার অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হন। প্রয়োজনে শিশু মনোবিদের পরামর্শ নিন।আর,কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে চলুন।সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শিশুদের স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুদের ফলের রস বা স্বাভাবিক জল পান করতে উৎসাহিত করুন।
ফ্লেভার্ড মিল্ক বা প্যাকেটজাত পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি লাচ্ছি, লেবুর শরবত দিন।সেইসঙ্গে,শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা,সঠিক সময় ঘুমানো ও খাবারের রুটিন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।এতে ভবিষ্যতে স্থূলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।







