
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য সমাজমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল,আইসিটি। ওই মন্তব্যগুলিকে বিদ্বেষমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইসিটির দ্বারস্থ হয়েছিল। তারপরেই এই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছে আইসিটি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান,মহম্মদ ইউনুস নৃশংস গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড,ক দিন আগে এক ভার্চুয়াল বার্তায় এমনই অভিযোগ করেছেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ইউনুসের ইন্ধনেই বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে, বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উপর হামলা চলছে। আমেরিকার নিউইয়র্কে আওয়ামি লিগের এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেখানেই গুরুতর অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু সত্যটা হল ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে গণহত্যায় লিপ্ত হয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। এমনকি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান লন্ডন থেকে জানিয়েছেন এভাবে গণহত্যা চালিয়ে গেলে এই সরকার বেশিদিন টিকবে না। সব মিলিয়ে ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদের দাপট ও সংখ্যালঘু নির্যাতন ইতিমধ্যেই মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে এহেন পরিস্থিতির মাঝেই হাসিনার এই অভিযোগ নতুন করে শোরগোল ফেলে দেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশে তা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। বাংলাদেশে অনেকেই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। এর পরেই সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইসিটিতে আবেদন জানানো হয়। তাদের বক্তব্য,হাসিনার মন্তব্যের প্রচার সোশ্যাল মিডিয়া এবং মিডিয়াতে নিষিদ্ধ না হলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।এর পরেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদার ওই মন্তব্য সর্বত্র নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।এবং বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
এখন ঘটনা হলো,বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের যে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে, তার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশে অশান্তির জন্য দায়ী করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ইউনূস এবং তাঁর ছাত্র সহায়কেরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থল ভাঙচুর করছেন, ইসকনের প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালাচ্ছেন। হাসিনা বলেছেন, এখন তাঁকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য দায়ী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পরিকল্পনা।আইসিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে যিনি সওয়াল করেছেন, সেই আইনজীবী আবদুল্লা আল নোমান জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে যে ভূমিকা নেওয়ার কথা, তা প্রয়োগ করার সময় এখনও আসেনি। ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক বসছে। সেই বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের যে অংশে ভূমিকা পালন করার কথা, তা প্রয়োগ করার সময় এখনও আসেনি। ওটা যখন আসবে তখন তা করা হবে।পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে রফিকুল আলম বলেছেন, এফওসিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যত উপাদান আছে, সবগুলোই রাখার চেষ্টা করা হয়। কখনও আলোচ্যসূচি ঠিক করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতি লাগে। এটা এখন পর্যন্ত চলছে। তবে সাধারণভাবে যেটা বলা যায়, বাণিজ্য আছে, কানেক্টিভিটি আছে, সীমান্ত আছে, জল আছে।এ বিষয়গুলো আলোচনাতে থাকবে। আরও অনেক উপাদান নিশ্চয়ই আছে, এই মুহূর্তে তাঁর কাছে সেটা নেই।শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আদালত বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আবেদন এসেছে কি না জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেছেন, তাঁর জানামতে এখনো পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো নির্দেশ আসেনি।
সব মিলিয়ে ঘরে বাইরে ,মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ,সর্বত্র বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ বাড়ছে। বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
