
বিএমআর এবং বিএমআই, শব্দ দু’টিই বেশি পরিচিত। বিএমআই, অর্থাৎ, বডি মাস ইনডেক্স।
মানে হল, ওজন ও উচ্চতার অনুপাত। সাধারণতঃ বলা হয় বিএমআই যত বেশি হবে, ততই নাকি খারাপ। অন্য দিকে, বিএমআর-এর পুরো কথাটি হল,বেসাল মেটাবলিক রেট। এর সঙ্গেও রয়েছে সেই ওজন আর বিপাকহারের সম্পর্ক। এই দুইয়ের পরিমাপ বুঝলেই বোঝা যাবে স্বাভাবিকের থেকে ওজন কতটা বেশি বা কম। এত দিন এই ,বিএমআই আর, বিএমআর মেপেই স্থূলত্ব মাপা হত। আর তার থেকে বোঝা যেত স্থূলত্ব বাড়ার কারণে ডায়াবিটিস, হাইপারটেনশন, হার্টের রোগের ঝুঁকি আছে কি না। কিন্তু এখন আরও এক গাণিতিক ফর্মুলা এসে গিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশে, যার নাম বিআরআই অর্থাৎ, বডি রাউন্ডনেস ইনডেক্স।বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই যেমন উচ্চতার সঙ্গে ওজনের পরিমাপ, বিআরআই হল উচ্চতার সঙ্গে কোমর-নিতম্বের মাপজোক। গবেষক-চিকিৎসকেরা বলছেন, ওজন বেশি মানেই এক জনকে মোটা বলা ঠিক নয়। ধরুন, যাঁর উচ্চতা ৬ ফুট, তাঁর ওজন যা হবে, যাঁর উচ্চতা ৫ ফুট তাঁর ওজন আলাদা হবেই। এ বার ৫ ফুটের ব্যক্তি যদি আড়ে-বহড়ে বেজায় স্থূল হন, কোমরে স্তরে স্তরে চর্বি থাকে, তা হলে তো তার ওজন বেশি হবেই। তখন হয়তো দেখা যাবে, দু’জনেরই বিএমআই এক। তফাত শুধু, এক জনের উচ্চতা বেশি, আর এক জনের কোমরের বেড়। ঠিক এই জায়গাতেই কাজ করবে বিআরআই স্কেল। কারণ, সেখানে উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে পেশি আর মেদের আয়তনও মাপা হবে। বিশ্লেষণটা হবে চুলচেরা।উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিএমআই ইনডেক্সের গাণিতিক ফর্মুলা আবিষ্কার করেন আমেরিকার ওয়েস্ট পয়েন্টের এক জন গণিতজ্ঞ ডায়ানা এম থমাস। এই অঙ্ক খুবই জটিল। যদিও অনলাইনে এখন বিআরআই ক্যালকুলেটর পাওয়া যায়। সেখানে ফর্মুলায় নিজের উচ্চতা, কোমরের মাপ ও আনুষঙ্গিক কিছু বিষয় লিখলেই, বিআরআই স্কেল কত, তা বেরিয়ে যাবে।বিআরআই স্কেলে মধ্যপ্রদেশের চর্বির মাপটাই নেওয়া হয়। মানে কোমর, নিতম্ব আর ঠিক ভুঁড়ির কাছাকাছি মেদ কতটা, সেটাই মাপা হয়। কারণ চর্বি পেটের কাছেই বেশি জমা হয়। অর্থাৎ, এক জনের কোমরের মাপ কত, তা মাপলেও কোমরের পরিধি বেরিয়ে যাবে। বিআরআই স্কেলে সেটিই দরকার পড়বে। বিআরআই কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বিএমআই যা ভুল করেছিল, তা-ই শোধরানোর চেষ্টা হয়েছে বিআরআই-তে।
যেমন, বিএমআই ইনডেক্সে কখনওই দেখা হয় না এক জনের লিঙ্গ কী, মহিলা না পুরুষ, তিনি কোথায় বাস করেন, তাঁর খাদ্যাভ্যাস কেমন, জাতীয়তা কী ইত্যাদি। কারণ এই সব কিছুর উপরেও কিন্তু শারীরিক গঠন, ওজন নির্ভর করে।
