
ভোট শেষ হওয়ার পরেই এবার কলকাতা থেকে পাকাপাকিভাবে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক অফিস বন্ধ করলো। ভোটের মাঝপথেই সল্টলেকের অফিসে আচমকা তালা ঝুলিয়ে কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই অফিস আর খোলেনি। জানা যাচ্ছে, অফিস বন্ধ থাকা অবস্থাতেই কলকাতার বহু কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সংস্থায় তাঁদের আর প্রয়োজন নেই। বাকি কিছু কর্মীকে দক্ষিণ ভারতে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আই-প্যাকের কাজ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার,রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। চিঠিতে পরাজয়ের নৈতিক দায় নেওয়ার কথা বলা হলেও, তাঁর নিশানায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক। চিঠিতে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়ে কাকলি স্পষ্ট লিখেছেন, ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় না। উল্লেখ্য উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি মাথা তোলার সুজগ পাওয়ার পরে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের শরণাপন্ন হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আই-প্যাকের হাত ধরে তৃণমূল বৈতরণী পার হতেই পিকে বা আই-প্যাককে দলের অন্দরেই স্থায়ী জায়গা করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, থার্ড পাওয়ার সেন্টার হয়ে ওঠে আইপ্যাক। তৃণমূলে তৃতীয় শক্তি বা, থার্ড পাওয়ার সেন্টার হয়ে উঠেছিলেন প্রথমে পিকে এবং পরবর্তীতে প্রতীক জৈন।
অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আই-প্যাকের নবীন কর্মীরা জেলা ও ব্লক সভাপতি তো বটেই, খোদ দলের মন্ত্রীদেরও ধমকাতে-চমকাতে শুরু করেছিলেন। এর মধ্যে,৮ জানুয়ারি সল্টলেকের আই-প্যাক দফতর এবং সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ইডি তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে প্রতীকের বাড়িতে হাজির হন। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীনই সেখান থেকে ল্যাপটপ, ফাইল ও নথিপত্র বের করে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়।







