গুজরাত বাংলা শাসন করবে না : মমতা

0
2

Last Updated on by

পার্থ মুখোপাধ্যায়

২৬ বছর আগে কলকাতার ধর্মতলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ১৩ জনের মৃত্যুর স্মরণে ২১ শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা থেকে কার্যত ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরকার মানুষের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ করেছে তার খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়েই ছিল কেন্দ্র এবং বিজেপির প্রতি তীব্র ঝাঁঝ।

২১ জুলাই আর ধর্মতলা। গত কয়েক বছর ধরেই এই দুটি শব্দ যেন সমার্থক। ২০২১-এর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই ছিল শেষ একুশের সভা।কিন্তু করোনা প্যানডেমিকের কারণে বদলে গিয়েছে ছবিটা। ভিড়ে ঠাসা ধর্মতলার বদলে ভারচুয়াল জমায়েত। ধর্মতলা নয়, করোনা পরিস্থিতিতে কালীঘাটের বাড়ির দফতর থেকেই ২১ জুলাইয়ের ভারচুয়াল সভায় বক্তব্য রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ওই দুই ভাই হয়েছেন, গোটা দেশটাকেই গুজরাত চালাবে। এরা সংবিধানকে আক্রমণ করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে,সাংবাদিকদের আক্রমণ করছে, সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করছে। এরা মনে করে টাকা ছড়িয়ে সব কিছু কিনে নেওয়া যায়। সেই টাকা গরীব মানুষকে দিক না, তাঁদের কাজে লাগে।

কোভিড পরিস্থিতিতেও মানুষ এনআরসি-এনপিআর-এর কথা ভুলে যায়নি বলে জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,এখানে সবাই নাগরিক। তুমি কে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়ার? সব উদ্বাস্তুরা আমাদের লোক।মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই? ওরা বলে, বাংলায় নাকি আইনশৃঙ্খলা নেই। বাংলায় আইনশৃঙ্খলা না থাকলে কোথায় আছে? উত্তরপ্রদেশে তো জঙ্গলরাজ চলছে। অসমে এনআরসি-র নামে কী অত্যাচার করল। তৃণমূলই একমাত্র জায়গা যেখানে শাসন করার লোক আছে, শোষণ করার লোক নেই।

স্বভাবতই এরপর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটাই ওনার শেষ ২১ জুলাই।সাংসদ বলেছেন, যারা শহিদদের রক্তের বিনিময়ে সরকারে এসেছে, এখন তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী আর সাধারণ মানুষকে শহিদ করছে।১৯৯৩ সালের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনও ফারাক নেই বলেই মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।তাঁর কথায়,যাঁরা গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে।কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ দিবসের নামে প্রহসন করছেন। বিরোধীদের মেরে টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর উনি শহিদ দিবস পালন করছেন। এরপরই ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় দিলীপবাবু বলেছেন, এটাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দিদির শেষ ২১ জুলাই উদযাপন।তাঁর এই মন্তব্যতেই স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের ভারচুয়াল সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরুতেই বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে ধর্মতলায় সভা না করতে পারায় ব্যথিত ৷ আগামী বছর বিধানসভা ভোটের পর সবচেয়ে বড় সভা হবে ৷ পরের বছর জিতে এসে ২১ জুলাই ঐতিহাসিক সভা করবেন ৷ তিনি বলেছেন, গত লোকসভা ভোটে কয়েকটা আসন জিতে গোটা পৃথিবী জয় করে ফেলেছে বলে মনে করছে।২০২১-এ ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তারপর ২১শে এত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সভা দেখবে এই রাজ্য।নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জন্য বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একইসঙ্গে ঘোষণা করেছেন, আমাদের সরকার থাকলে, সারা জীবন ফ্রি-তে রেশন পাবেন। উপার্জনের উপায় বের করে, তার থেকে আয় গরিব মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এটাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,সিপিএম-এর জমানায় তাঁকে বারবার শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। আর বিজেপি ক্রমাগত অপমান করে চলেছে।ওরা তাঁকে অপমান করছে, বাংলাকে অপমান করছে, বাংলার মানুষকে অপমান করছে। ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষের মনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।কেন্দ্র দিনে-দুপুরে অপমান করছে। এর বদলা আমরা নেব, এর বদলা আমরা মানবিকতা দিয়ে নেব। বাংলার মানুষ জানিয়ে দেবে যে কোনও বহিরাগত বাংলাকে শাসন করবে না। বাংলা মানুষই বাংলা চালাবে। গুজরাত বাংলা শাসন করবে না।