ত্বকের ‘পিঙ্ক গ্লো’, ফুল দিয়ে ফেস মাস্ক

0
76
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

এখন বলা হচ্ছে প্রকৃতির ঝুড়িতেই লুকিয়ে আছে চিরযৌবনের আসল চাবিকাঠি। হাতের নাগালে থাকা অতি পরিচিত রক্তজবা যে ত্বকের অকাল বার্ধক্য রুখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি বিশেষ ফেস মাস্ক মুখে ফিরিয়ে আনতে পারে সেই হারানো গোলাপি আভা।

দামি কেমিক্যাল নয়, বরং জবা ফুলের ছোঁয়ায় কীভাবে ত্বককে করে তুলবেন ভাস্বর, তা জেনে নেওয়া জরুরি।এদিকে,রক্তজবাকে বলা হয় প্রকৃতির বোটক্স। এতে থাকা আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে ভেতর থেকে জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে যদি সঠিক উপকরণ মেশানো যায়,তবে পার্লারের ফেশিয়ালকেও হার মানাবে এই ঘরোয়া টোটকা। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গিয়েছে বা যাঁদের মুখে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে, তাঁদের জন্য জবা ফুলের মাস্ক এক অব্যর্থ দাওয়াই।এখন প্রশ্ন হলো,কীভাবে তৈরি করবেন এই বিশেষ মাস্ক? উত্তর হলো,পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে গাছ থেকে ৪-৫টি তাজা জবা ফুল সংগ্রহ করুন। ফুলের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে নিয়ে পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর একটি হামানদিস্তায় বা মিক্সিতে পাপড়িগুলো মিহি করে পিষে নিতে হবে।এই মিশ্রণের সঙ্গে এক চামচ টাটকা টক দই এবং সামান্য অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন।কারণ দই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে আর অ্যালোভেরা জেল রোদে পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে। উপকরণগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি আপনার বিশেষ রূপটান।এবার ব্যবহার করার আগে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। এরপর মুখ ও ঘাড়ের অংশে সমানভাবে মাস্কটি লাগিয়ে রাখুন।অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে এলে হালকা ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই নিয়ম মেনে চললে কয়েক দিনেই তফাত চোখে পড়বে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের ত্বকের পরিবর্তন দেখে নিজেই অবাক হবেন।তবে সবার ত্বক এক রকম হয় না।

তাই পুরো মুখে এই মাস্ক লাগানোর আগে কানের পাশে বা হাতের ত্বকে সামান্য লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।যদি ব্যবহারের পর ত্বক লাল হয়ে যায় বা চুলকানি শুরু হয়,তবে এটি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিলে তার স্থায়িত্ব বেড়ে যায়। জবা ফুলের এই প্রাকৃতিক ছোঁয়া আপনার ত্বককে করে তুলবে কোমল, মসৃণ ও উজ্জ্বল।