
উত্তর ইরাকে একটি পাহাড়ি গুহায় আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দিয়েছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি ,পিকেকে-এর অর্ধশতাধিক যোদ্ধা। এটা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তুরস্কবিরোধী বিদ্রোহের অবসানের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, অস্ত্র সমর্পণের সময় পাহাড়ের আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল এবং পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল ইরাকি কুর্দিশ নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য,১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কে নিষিদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে ঘোষিত পিকেকে মে মাসে ঘোষণা করে, তারা অস্ত্র জমা দেবে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াইয়ের ইতি টানবে।এই ঘোষণা আসে দলটির দীর্ঘদিন কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের এক সর্বজনীন আহ্বানের পর। এদিকে,তুরস্কের সঙ্গে পিকেকের কয়েক দফা ব্যর্থ শান্তি প্রচেষ্টার পর, এই নতুন উদ্যোগটি দেশটিতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে। অভিযোগ,এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।দেশের অর্থনীতিতে বিরাট চাপ পড়েছে এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিভাজন আরো গভীর হয়েছে।
বলা হচ্ছে,উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়ার ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দুকান শহরের যাসানা নামক এক গুহায় এই অস্ত্র জমাদানের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।এক ইরাকি নিরাপত্তা কর্তা এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের এক কর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ জন পিকেকে যোদ্ধা ও একজন কমান্ডার তাদের অস্ত্র জমা দিয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে আরো কতজন অস্ত্র জমা দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
