
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের ভারতের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দিনের সহিংস সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে সীমিত খবরই বাইরে আসছে।এর আগে মুজাফফরাবাদে সোমবার প্রথম হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের বিনা খরচে বিদ্যুৎ ও দামি গাড়ির মতো বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা চালু রাখার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানায়।
উচ্চ পর্বতমালার এ উপত্যকাজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকে দৈনিক বিক্ষোভের খবর প্রকাশে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।রাস্তায় রক্তের দাগ, ছোড়া গুলির খোসা, ভাঙা কাচের টুকরো ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক অরাজকতার সাক্ষ্য বহন করছে।মানুষজন বলছেন,এখানকার রাজনীতিকরা গ্যাংস্টারের মতো তাঁদের মাথার ওপর শাসন চালাচ্ছে। তাঁরা তাদের বিদায় চান, তাদের এই সুবিধাগুলো বাতিল চান।এদিকে,বিক্ষোভ ঠেকাতে মুজাফফরাবাদের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। একসময় বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছ’ হাজারে পৌঁছায়।আজাদ কাশ্মীর সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ছ’জন সাধারণ মানুষ ও তিনজন পুলিশ নিহত হয়েছেন।এতে আরো বলা হয়েছে, সহিংস বিক্ষোভে আহত হয়েছে ১৭০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য ও ৫০ জন সাধারণ মানুষ।তবে বিক্ষোভ সংগঠকরা বলছেন, আহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা ১০০ জনেরও বেশি।অন্যদিকে,বিক্ষোভ নিয়ে এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনী কোনো বিবৃতি দেয়নি।উল্লেখ্য,পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সমালোচনা এক ধরনের নিষিদ্ধ বিষয়।
অন্যদিকে,বালোচিস্তানের তিন জেলায় বিদ্রোহীদের ডেরায় নতুন অভিযান শুরু করেছে পাক নিরাপত্তাবাহিনী। এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি,বিএলএ-র অন্তত ২১ জন সশস্ত্র যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর ,আইএসপিআর জানিয়েছে।
