গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

30 C
Kolkata
30 C
Kolkata
More
    Home Editorial কংগ্রেস- তৃণমূলে দূরত্ব বাড়ছে

    কংগ্রেস- তৃণমূলে দূরত্ব বাড়ছে

    0
    488
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    দেশের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া কি আর টিকবে? ফাটল স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে বড় শরিকের সঙ্গে মেজো এবং সেজো শরিকের।ফাটল বাড়তে বাড়তে ভাঙনে গড়াবে কি? সাম্প্রতিক রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। 

    আসলে মঙ্গলবার একই দিনে সংসদের ভিতরে বাইরে অন্তত তিনটি ঘটনা বিরোধী জোট ইন্ডিয়া’র দুই শরিক দল কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব রেখে এখন চলছে সমাজবাদী পার্টি,এসপি-ও।সংসদ চত্বরে আদানিদের ঘুষকাণ্ডের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কংগ্রেস এবং বিরোধী জোটের কিছু ছোট শরিক দলের সাংসদেরা। কিন্তু কর্মসূচিতে যোগ ছিল না তৃণমূল কংগ্রেস এবং এসপি। আম আদমি পার্টি বা,আপ-এরও কাউকে দেখা যায়নি।

    এর মধ্যে তৃণমূলের এই অনুপস্থিতি নিয়ে যখন জল্পনাকল্পনা চলছে, সেই সময় দলের সাংসদ কীর্তি আজাদের একটি মন্তব্যকে মশকরা বলে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইন্ডিয়া’র মুখ করার দাবি তুলে সম্প্রতি বলেছিলেন,একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই হারতে হয় বিজেপিকে। উপনির্বাচনেও মমতাদিদি ছক্কা মেরে নরেন্দ্র মোদীকে পশ্চিমবঙ্গের বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেনতৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই জোটের মুখ করার দাবি তুলেছিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।কিন্তু কীর্তির এই মন্তব্যকে ভাল ভাবে নেয়নি কংগ্রেস। দলের তামিলনাড়ুর সাংসদ মণিকম টেগোর খোঁচার সুরেই বলেছেন, এটা খুব সুন্দর একটা মশকরা।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর ধ্যানধারণা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কেরলের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবার পণ্ডিত বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন শশীকে।এদিকে বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগে গত কয়েক দিন ধরেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিসেনা পাঠানোর জন্য কেন্দ্র আর্জি জানাক বলে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরেই মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে শশী তারুর প্রসঙ্গে বলেছেন, ঠিক জানেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিসেনার ভূমিকার বিষয়টি পুরোপুরি বোঝেন কি না। শশী তারুর বহু বছর রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিসেনায় কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দেশ নিজে না-চাইলে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনও দেশের ভিতরে শান্তিসেনা যায়।

    এর পাল্টা হিসাবে তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ পাল্টা বলেছেন, শশী তারুর তো অনেক বড় পণ্ডিত। তা শশী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে কটাক্ষ না-করে শান্তিপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেন?

    আসলে সংসদের চলতি অধিবেশনের গোড়া থেকেই বিরোধীদের সে ভাবে কক্ষ সমন্বয় করতে দেখা যায়নি।এমনকি কক্ষ সমন্বয় এবং সংসদে দেশের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া’র রণকৌশল ঠিক করতে যে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল, তাতেও গরহাজির ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

    এদিকে কংগ্রেস,রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আদানি ঘুষকাণ্ড নিয়ে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ঝড় তুলতে চাইছে।কিন্তু দিনের পর দিন সংসদ অচল করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগেই জানা গিয়েছিল, সংসদ অচল করে দেওয়ার কংগ্রেসের কৌশলে সায় নেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। আদানি-বিরোধী বিক্ষোভে দলের আপত্তি নেই। কিন্তু কংগ্রেস, আরও স্পষ্ট করে বললে রাহুল গান্ধী যে ভাবে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে সামনে রেখে বাকি বিরোধীদেরও তাতে শামিল হতে বলছেন, তাতে আপত্তি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ,তৃণমূল কংগ্রেসের। প্রকাশ্যেই বলা হয়, একটিমাত্র বিষয় নিয়ে সংসদ বানচাল করার ঘোর বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। বরং রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা এবং দেশের অন্য সমস্যাগুলির বিষয়ে তারা সংসদে বেশি সরব হতে চায় বলে ইঙ্গিত দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল বা সমাজবাদী পার্টি,এসপির দূরত্ব এই মুহূর্তে প্রকট। আপও দূরত্ব রেখেই চলছে।

    অন্যদিকে লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার বিচারে বিরোধী জোটের বৃহত্তম দল কংগ্রেস। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম দল যথাক্রমে সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই দুই দলের সঙ্গেই সংসদের ভিতরে ও বাইরে কৌশলগত প্রশ্নে কংগ্রেসের সম্পর্ক তেমন মসৃণ নয়।পাশাপাশি ইন্ডিয়া’য় যে-সমস্ত দলের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের সম্পর্ক মসৃণ, তাদের মধ্যে ডিএমকে ছাড়া কেউই সংসদীয় শক্তির বিচারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।আগামী দিনে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার,এক দেশ এক ভোট বা, ওয়াকফ সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করলে বিরোধীরা নিদেনপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিরোধী সাংসদদের মধ্যেই।

    এই জায়গা থেকেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি দেশের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া’র দিন  শেষ হয়ে আসছে? ভাঙন অবশ্যম্ভাবী? না কি এই ভাবেই কখনও দূরে থেকে, কখনও কাছাকাছি এসে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখা হবে দেশের বিরোধী জোট?