বাংলাদেশ ইস্যুতেও রাজনীতির খোঁচা !

0
9939
ছবি  সৌজন্যে : প্রতিনিধিত্ত্বমূলক 

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন ইস্যুতে এবার কেন্দ্রকে ঘুরিয়ে খোঁচা দিয়েছেন।বলেছেন,নির্দিষ্ট ধর্ম নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কেন্দ্রের। তবে তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, রাজ্য তাতে পাশে থাকবে বলেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেশই নিতে পারে।অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ছেড়েছেন। 

এদিকে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ ঐক্যজোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর গ্রেফতারির প্রতিবাদে উত্তাল বাংলাদেশ। আর তা নিয়ে আগেই ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ইস্যুতে সংসদে রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন,বাংলাদেশে ভাঙচুর ও নানা ঘটনার কথা রিপোর্ট হয়েছে গত কয়েক মাসে। কেন্দ্রীয় সরকার এগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে ঢাকার তাঁতিবাজারে হামলা ও ২০২৪ সালে দুর্গাপুজোর সময় সাতক্ষিরায় ঘটনাও এরমধ্যে রয়েছে। এই ইস্যুতে ভারতের স্পর্ষ্ট বার্তা, বাংলাদেশ যেন তার সমস্ত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে,বিশেষত সংখ্যালঘুদের। বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়, সংখ্যালঘুদের এবং তাদের ধর্মীয়স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। সংখ্যালঘু-সহ বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।

এর আগে দুপুরে বিধানসভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফের সেকথাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেছেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনও ধর্মের উপরই আঘাত হানা ঠিক নয়। তৃণমূল কংগ্রেস শান্তির পক্ষে। আবারও বলছেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ। এবিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা কেন্দ্র নেবে। প্রয়োজনে দুই দেশের সরকার কথা বলবে। এখানে রাজ্যের কোনও অবস্থানের বিষয় নেই।

তবে এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত তা জানিয়েও বিজেপি সরকারকে বিঁধতে ছাড়েন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, কেন্দ্র সরকারেরও একটা নির্দিষ্ট ধর্ম নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি সেসবে যাচ্ছেন না। তাঁরা চান সবাই একসঙ্গে মিলে মিশে থাকুন। মন্দির-মসজিদ-গির্জা সব থাকুক। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর কথায়, ধর্ম নিয়ে হানাহানি না করে একসঙ্গে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকাটাই কাম্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম আদালতের বাইরে সংঘর্ষে আইনজীবীর মৃত্যুর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের অনুগামীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময়ে মৃত্যু হয় ওই আইনজীবীর। অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আইনজীবীকে হত্যা’র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনায় মানবাধিকার চরম ভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নাম না করে চিন্ময়ের মুক্তির দাবিও তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। হাসিনার বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছে তাঁর দল। তিনি লিখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষনেতাকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

উল্লেখ্য,অভিযোগ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। চলতি নভেম্বরে তা লাগামছাড়া হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৫ নভেম্বর ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন চট্টগ্রামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী। ইসকনকে জঙ্গি সংগঠন-এর তকমা দেন তিনি। যার পরই স্থানীয় হিন্দুদের বিক্ষোভে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয় চট্টগ্রাম। সেই বিক্ষোভ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে।এর মাঝেই ইসকন মন্দিরের সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আনা হয়েছে। খারিজ হয়েছে জামিন। যা নিয়ে হিন্দুদের বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ। যার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের রাজনীতিতেও।

এখন ঘটনা হল আওয়ামী লীগের নেত্রী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের কথা সবাই জানেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ওপর বাংলার মুজিব কন্যাকে আপা বা দিদি বলে সম্বোধন করেন। আর,তিনি সরাসরি কালীঘাটের বাসিন্দাকে বোন বলে ডাকেন।সেই সম্পর্কের জেরেই বাংলাদেশের অভন্তরীন রাজনীতিতে তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়লেও শেখ হাসিনা কখনও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সম্পর্কে একটাও উত্তেজক বিবৃতি দেন নি। রাজনীতির বাধ্যবাধকতার জায়গাটা বুঝতে পেরে সম্ভবতঃ। ফলে আজ বাংলাদেশে যখন সনাতনপন্থীরা আক্রমণের মুখে তখন নীতিগত ভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়ালেও একই বিশেষ ইঙ্গিত ,আর যাই হোক সৌজন্যের রাজনীতি নয়।