লকডাউন শাপে বর রাজ কুন্দ্রার

0
4

রাজ কুন্দ্রা মাত্র দেড় বছরে পর্ন ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। তদন্তে নেমে এমনই জানতে পেরেছে মুম্বই প্রশাসন।দাবি, লকডাউন শাপে বর হয়েছিল অভিযুক্তের কাছে। ওই সময়েই রাজের পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে।নিজেকে আড়ালে রাখতে প্রচুর মাথা খাটিয়েছিলেন রাজ।

পুলিশ জানিয়েছে,২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে রাজ কুন্দ্রা,আর্মস প্রাইম মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা খোলেন।তার ছ’মাস পরেই সংস্থাটি,হটশট নামে একটি মোবাইল ফোন অ্যাপ তৈরি করে।পরে এই অ্যাপটি পুলিশের খাতায় পর্ন অ্যাপ নামে চিহ্নিত হতেই পর্ন ভিডিয়ো পাঠানোর পদ্ধতি বদলে ফেলেন রাজ।সন্দেহ এড়াতে উইট্রান্সফারের মাধ্যমে ভিডিয়ো পাঠাতে থাকেন।যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ শাখা) মিলিন্দ ভরাম্বে জানিয়েছেন,পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন রাজের আমেরিকাবাসী শ্যালক প্রদীপ বক্সী।শ্যালকের লন্ডনের পর্নোগ্রাফি সংস্থা কেনরিন লিমিটেডকে সাহায্য করতেই দেশে পর্ন হাব খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত।পুলিশের নজরে পড়লে কী করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেবেন, তার জন্য,বলি ফেম নামে আরও একটি পরিকল্পনা ছিল রাজের।কী ভাবে রাজের এই ব্যবসা নজরে এল প্রশাসনের? মুম্বই পুলিশের কথায়, ২০২১-এর ৪ ফেব্রুয়ারি জোর করে পর্ন ছবিতে নামানোর অভিযোগ জানান এক মহিলা।এর পরেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ।খবর, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিনয়ের জন্য আসা উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রীদের ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন রাজ এবং তাঁর সংস্থা। শ্যুটের দিন চিত্রনাট্যে বদলে ভয় দেখিয়ে জোর করে তাঁদের নগ্ন করা হত।আক্রান্তরা প্রত্যাখ্যান করলে তাঁদের শ্যুটের যাবতীয় খরচ বহনের হুমকি দেওয়া হত।অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পর জানা যায়, ছবি তৈরির পর তার বিজ্ঞাপনও নেটমাধ্যমে প্রচার করতে হত অভিনেত্রীদেরই।কারণ, ভারতে পর্ন ছবি এখনও বেআইনি।তাই সরাসরি ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের প্রচার সম্ভব নয়।পুলিশের দাবি, যদিও অভিনেত্রীরা যে ভাবে প্রচার চালাতেন সেটিও বেআইনি।পুলিশের দাবি, মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে মাড আইল্যান্ডের ভাড়া নেওয়া একটি বাংলোয় দিনভর শুটিং হত।পাঁচ থেকে বড় জোর ছ’জন কর্মী উপস্থিত থাকতেন।তাঁরাই পরিচালনা করতেন,সংলাপ লিখতেন।শ্যুটিংয়ের জায়গা বাছতেন। প্রশাসনের খবর,রাজের আনা নতুন অ্যাপ হটশট লকডাউনের সময় প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কয়েক মাসে যার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল কয়েক লক্ষ।