
মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যু হওয়ার পরেই গুরুতর অবস্থায় আরও ৪ প্রসূতির বাড়ির লোককে দিয়ে রীতিমতো মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রোগীর মাথার কাছে থাকে যে প্রেসক্রিপশন ক্লিপ, সেখানেই রিঙ্গার লেকট্যাটের উল্লেখ করে রোগীর বাড়ির লোকদের দিয়ে লেখানো হয়েছিল প্রসূতিদের অবস্থা আশংকাজনক।
এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে জেনেও তাঁরা পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অনুমতি দিচ্ছেন। আর এহেন রিপোর্ট পাওয়ার পরেই রীতিমতো হৈচৈ শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে। কারণ কোনও রোগীর মাথার কাছে থাকা ওই প্রেসক্রিপশনের উপর এরকম কোনও নোট রোগীর বাড়ির লোকজনদের দিয়ে লেখানো, আইনত দণ্ডনীয়। খোদ, মেদিনীপুরের সিইএমওএইচ বলছেন, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনে এমনটা কখনও দেখেননি। কিন্তু রিঙ্গার লেকটেট ব্যবহারে, প্রসূতি মৃত্যুর পর এমনটা কারা কাকে দিয়ে লিখিয়ে নিলো, তা খুঁজে বার করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবনে তদন্তে শেষে ফিরে আসা বিশেষজ্ঞরা যে বৈঠক করেছেন, সেখানেও এই বেআইনিভাবে মুচলেকা লিখিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। রিপোর্ট তলব করা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিকেলের মহিলা সুপারের কাছ থেকেও। এমনকি সেই সময় ওই ওয়ার্ডে যাঁরা চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত কমিটির কাছে খবর, সেদিন কৰ্তবোৰত সিনিয়র ডাক্তাররা বিশ্রামে থাকায়, সিজার করেছিলেন, জুনিয়র ডাক্তাররা। কেন এমনটা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, এসএসকেএমের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নিষিদ্ধ রিঙ্গার ল্যাকটেট -আরএল স্যালাইন বাতিল করে মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে জড়ো করার কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বাতিল হওয়া স্যালাইন বার করে আনার কাজ শুরু হয়েছে। শুধু মহিলা এবং শিশু বিভাগ থেকেই নয়, অন্যান্য ওয়ার্ড থেকেও স্যালাইন বের করে আনা হয়েছে।







