
কাঁধ ছোঁয়া লম্বা চুল চোখে সানগ্লাস আর মাথায় টুপি পরে স্টেজের উপর মাইক হাতে সে যেন এক বিস্ময় বালক। সময়ের অতলে চলে যাওয়া এক রকস্টার। ষাটোর্ধ্ব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই রকস্টার অবতার প্রকাশ্যে আসতেই একেবারে শোরগোল। আকাশ চ্যাটার্জি নামে এক রকস্টারকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে গল্প।
যে একটা গোটা প্রজন্মের হৃদস্পন্দন, একটা সময়ের সাক্ষর। যে আকাশকে ছোঁয়ার জন্য প্রতি মুহূর্তে জনঅরণ্যের সৃষ্টি হয়, সাদা পাতায় যে আকাশ চ্যাটার্জির স্বাক্ষর দাগ কেটে দেয় শত সহস্র তরুণী হৃদয়ে একদিন আচমকাই সেই মহাতারকার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ছন্দনপতনে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় ,স্টার ইমেজ।ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত আসন্ন ছবি অভিমান-এ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের লুক দেখে সত্যিই তাজ্জব বনে গিয়েছিল দর্শক। সবচেয়ে মজার বিষয় প্রথম ঝলকে প্রসেনজিৎকে চিনতে পারেননি খোদ অভিনেতার বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই কিন্তু, সত্যি। প্রসেনজিৎ নিজেই সোশাল মিডিয়ায় সেই কথা জানিয়েছেন। অভিমান-এর টিজার দেখে প্রসেনজিতের বাবা বলেছিলেন, তোকে চিনতেই পারিনি। একজন অভিনেতা হিসেবে এটা কত বড় প্রাপ্তি সেই আবেগ-অনুভূতিই সকলের সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন প্রসেনজিৎ।রং তুলির টানে অভিমান-এ প্রসেনজিতের রকস্টার ইমেজের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এটা শুধুই নিছক একটি ছবি ছবি নয়।এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একজন সন্তানের প্রতি বাবার স্নেহ, ভালোবাসা। ছবিটি শেয়ার করে প্রসেনজিৎ লিখেছেন, বাপির আঁকা এই ছবিটা আমার অভিনীত একটি চরিত্রের প্রতিচ্ছবি শুধু নয়,এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একজন বাবার চোখে তাঁর ছেলেকে নতুন করে আবিষ্কার করার গল্প।ষাটোর্ধ্ব অভিনেতার এহেন দাপুটে অভিনয়ের ঝলক সত্যিই মনোমুগ্ধকর।বাবার ভালোবাসায় আপ্লুত প্রসেনজিৎ। আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, অভিমান-এর টিজার দেখে বাপি বলেছিলেন, তোকে চিনতেই পারিনি।
একজন অভিনেতার কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে। যখন নিজের বাবাও তাঁর অভিনয়ে এক নতুন মানুষকে খুঁজে পান। বাপির তুলির আঁচড়ে, তাঁর অনুভূতিতে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করি। আমার কাজ তাঁর হৃদয় ছুঁয়েছে। এই ভালোবাসা, আশীর্বাদ আর বিশ্বাস আমার কাছে অমূল্য।
