
মিষ্টি খেতে কার না ভালো লাগে? তবে অনেক সময় এই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ করে চকলেট, কেক, আইসক্রিম বা মিষ্টি পানীয় খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে—এটাই চিনির আকাঙ্ক্ষা।
এই আকাঙ্ক্ষা শুধু স্বাদের জন্য নয়, এর পেছনে কাজ করে আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার ওঠানামা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস।সমস্যা হলো, বারবার অতিরিক্ত চিনি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।এতে ওজন বাড়া, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে চিনির আকাঙ্ক্ষা কমানো একেবারেই অসম্ভব নয়। কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি মিষ্টির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে পারেন।অতিরিক্ত কড়া ডায়েট এড়িয়ে চলুন।অনেকে ওজন কমাতে গিয়ে খুব কম ক্যালরি খান বা অনেক খাবার বাদ দেন। এতে শরীর খাবারের অভাব বোধ করে এবং উল্টো করে মিষ্টি ও জাংক ফুডের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। খুব কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ডায়েট অনেকের ক্ষেত্রে চিনির আকাঙ্ক্ষা বাড়ায়। তাই খাবারকে শত্রু ভাববেন না।ভারসাম্য রাখুন।আসলে,রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে।উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার ক্ষুধা ও আকাঙ্ক্ষা বাড়ায়।অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার থাকলে মিষ্টির প্রতি টান বেশি হয়। তাই ধীরে হজম হয় এমন খাবার বেছে নিন।প্রোটিন ও ফাইবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমায়।ভালো উৎস হলো ডিম, মাছ, ডাল, দই, শাকসবজি, ফল, ওটস, বাদাম। এতে পেট ভরা থাকবে ও চিনির আকাঙ্ক্ষা কমবে।পাশাপাশি ঘুম কম হলে খিদে ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন,চাপ বাড়লে শরীর মিষ্টি খাবারকে স্বস্তি হিসেবে খোঁজে। স্ট্রেসে কর্টিসল ও ঘ্রেলিন হরমোন বাড়ে।
এতে মিষ্টি ও কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। হাঁটা, ব্যায়াম, গান শোনা বা পছন্দের শখে সময় দিন।খাবারের ব্যাপারে নমনীয় হোন,কোনো খাবার একেবারে নিষিদ্ধ করলে সেটার প্রতিই আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে প্রিয় মিষ্টি খেলে অপরাধবোধ করবেন না। মনে রাখা জরুরি যে, ভারসাম্যই মূল চাবিকাঠি।অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধীরে ধীরে বদলান,একদিনে সব বদলানো সম্ভব নয়—ছোট পদক্ষেপ নিন।রাতের খাবারের পর মিষ্টির বদলে ফল খান। সোডার বদলে লেবু জল পান করুন। নতুন অভ্যাস তৈরি হতে সময় লাগে তাই ধৈর্য ধরুন।
