
পর্দার সফল শিল্পী তারা। তারকাখ্যাতি জগতজুড়ে। তবে পর্দায় তারকা হওয়ার কোনো কথা তাদের ছিল না। কিন্তু প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি আর ভাগ্য তাদের স্বপ্নপূরন করেছে। বলিউডে এমন কিছু তারকা রয়েছেন যারা নিজেদের সফল ক্যারিয়ারের সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিনোদন জগতে নিজেদের টেনে এনেছেন।কেউ ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার,কেউ সফ্টওয়্যার ডেভেলপার,কেউ বা আবার কর্পোরেট জগতের কর্মী।কিন্তু মন পড়ে ছিল অভিনয়ের মায়াবী দুনিয়ায়।
সেই স্বপ্নপূরণের জন্য উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি।শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন। যেমন এখন ভিকি কৌশল আজ বলিউডের এক জনপ্রিয় মুখ। ছাভা, স্যাম বাহাদুর, উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক, সর্দার উধম-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।কিন্তু একসময় তিনি ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার।মুম্বাইয়ের একটি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর বেশ কয়েকটি নামী সংস্থা ভিকি কৌশলকে মোটা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিল।কিন্তু ভিকির মন পড়ে ছিল অভিনয়ে। তাই সেই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে অভিনয়কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০১২ সালে গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর ছবিতে অনুরাগ কাশ্যপের সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন ভিকি।এরপর কিছু ছবিতে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের পর ২০১৫ সালে মাসান ছবির মাধ্যমে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেন। ওদিকে দিল্লির একটি কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তাপসী পান্নু।কলেজ শেষে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি শোনা যায়,আইওএস-এর জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করেছিলেন তাপসী।কিন্তু অভিনয়ের প্রতি ভালবাসা কমেনি কখনও।চাকরির পাশাপাশি মডেলিং করতেন তিনি। ২০০৮ সালে এক জনপ্রিয় প্রতিযোগিতায় নজর কাড়েন। এরপর একাধিক বিজ্ঞাপনে কাজ করেন এবং ধীরে ধীরে সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন। ২০১০ সালে এক তেলুগু ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। ২০১৩ সালে চশমে বদ্দূর ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তাপসী।ওপাশে জন আব্রাহম অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও সাফল্য পেয়েছেন।কিন্তু বলিউডে আসার আগে তিনি ছিলেন একজন মিডিয়া প্ল্যানার।মুম্বইয়ের একটি কলেজ থেকে এমবিএ করে কিছুদিন কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করেন তিনি।তবে অভিনয়ের নেশা ছাড়তে পারেননি।চাকরি ছেড়ে মডেলিংয়ে আসেন জন। জনপ্রিয়তা অর্জন করার পর বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেন। ২০০৩ সালে জিস্ম ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।আবার,শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ ছিল শত্রুঘ্ন সিন্হার কন্যা সোনাক্ষী সিন্হার। তবে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে। কলেজের পড়াশোনা শেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। এমনকি মেরা দিল লেকে দেখো-সহ বেশ কিছু ছবির জন্য পোশাক ডিজাইনও করেছিলেন। তবে নিজের আসল স্বপ্ন পূরণ করতে চাকরি ছেড়ে দেন সোনাক্ষী। ২০১০ সালে দাবাং ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই সলমন খানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়ে নেন।
অন্যদিকে,রণদীপ হুডা উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান। সেখানে মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করেন, পরে মানবসম্পদ ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। বিদেশে থাকার সময় জীবিকা নির্বাহের জন্য গাড়ি চালানো ও রেস্তরাঁয় কাজ করতেন।ভারতে ফিরে একটি বিমান সংস্থার মার্কেটিং বিভাগে যোগ দেন। পাশাপাশি মডেলিং এবং নাটকে অভিনয় চালিয়ে যান। বড় পর্দায় কাজের সুযোগ পাওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। ২০০১ সালে মনসুন ওয়েডিং ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন রণদীপ হুডা।
