গুরুত্ব বাড়িয়ে নিতে চাইছে ভুটান

0
789
ছবি সৌজন্যে : সংগৃহীত

ভুটানের রাজা দেশের এক প্রান্তে কার্যত গ্রামাঞ্চলে গড়ে তুলতে চান সিঙ্গাপুর। তার থেকেই বড় একটা শহর। তাই সরকার নেমে পড়েছে প্রচারে। উড়িয়ে আনা হয়েছে সিঙ্গাপুরের কেষ্ট-বিষ্টুদের। শিল্পপতি ধরতে ঘন ঘন ভারতে আসছেন রাজা এবং প্রধানমন্ত্রী। ভারত অবশ‌্য সাহায‌্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এলাকাটি অসম সীমান্তে,বঙ্গাইগাওঁ থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। নাম গেলেফু। সেই গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি তৈরি হবে এই ছোট্টা গঞ্জে। তার জন‌্য অসমের কোকড়াঝাড় থেকে রেল লাইন টেনে আনা হবে। হবে বিশ্বের অন‌্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর। নয়া সিঙ্গাপুর বলে কথা। মজার কথা হল সিঙ্গাপুরের মোট আয়তন হল ৭৩৪ বর্গ কিলোমিটার। আর গেলেফু হবে আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। বুঝুন ঠেলা।

২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর। প্রথম ঘোষণা হয়েছিল এই স্বপ্নের প্রকল্পের ওই বিশেষ দিনে ১৯০৭ সালে স্যার উগেন ওয়াংচুক প্রথম রাজা হয়েছিলেন। তাঁর বংশধর পঞ্চম রাজার ঘোষণা। তার পর এক বছর ধরে চলছে তার প্রচার।

এখন যা গেলেফু, তার আসল নাম ছিল হতিশার। ১৯৫৯ সালেও চিঠি যেত ওই নামে। এখনও অসমের বাঙ্গাইগাঁও জেলায় সীমান্তের এপারের গ্রামের নাম হাতিশার। তখন তৃতীয় রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুকের আমল। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে ডেকে পাঠালেন অনুগত রাজ প্রাসাদের স্টোর কিপারকে। বললেন এখনও রাজ্যের কথা জায়গার নাম ভারতীয় আছে। রাজ কর্মচারি লোপেন নিয়াপচি জানালেন, প্রভু তিনটি জায়গা বাকি আছে। এক, হাতিসার, দুই জয়গাওঁ ভুটান আর মেলা বাজার বা গোদুমা। রাজা লোপেনকে বলেন তিনটি নাম বের করো। রাজ কর্মচারি তো লটারি পেলেন। স্বয়ং মহারাজ দায়িত্ব দিয়েছেন। নাম ঠিক হলো। হাতিশার হয়ে গেলো গেলেফু, জয়গাঁও ভুটান হল ফুন্টসোলিং আর মেলা বাজার হলো সম্দ্রূপঝংখার। আর আজ পঞ্চম রাজা জিগমে কেশর নামগিয়াল ওয়াংচুক চাইছেন সিঙ্গাপুর বানাবেন। ২১ বছর লাগবে।

এদিকে ঘটনা হল পুরোটাই প্রায় ভারতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তৈরি হতে যাওয়া এই প্রকল্পে আবার চিনকেও ডাকতে চাইছেন ভুটানের রাজা। এখানেই জট,ভারত চিনকে ঘরের দোরগোড়ায় ঠেকাতে বেশি বিনিয়োগ করবে। তাই ট্রেন লাইন টানা হবে কোকরাঝার থেকে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হচ্ছে। রানওয়ে তৈরি। রাজা সেই ফাঁকা রানওয়ে দিয়ে হেঁটে এলেন কয়েক দিন আগে। এটা সিঙ্গাপুর না ভারতের হংকং হবে?

তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে,এটা ভারতের হংকং হবে। কেন, না ওই এলাকায় আলাদা আইন হবে। যেখানে ভুটানের নিয়ম খাটবে না। বিশেষ প্রশাসনিক এলাকা হবে। কিন্তু ঘটনা হলো আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ড. লোটে সেরিং। তিনি হঠাৎ ঘোষণা করেছিলেন চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে ডোকালাম দিয়ে দেওয়া হবে বেজিংকে। তাতে ভুটানের আপত্তি নেই। নড়ে চড়ে বসেছিল নয়া দিল্লি। এরপর অনেক চোরা স্রোতের পর ভোটে ক্ষমতা হারান সেই শল্য চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রী লোটে সেরিং। এখন ক্ষমতায় সেরিং তোবগে।

কিন্তু মজার কথা, এই প্রস্তাবিত নতুন শহরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই চিন বন্ধু ডাক্তারবাবু, ড. লোটে সেরিংকে। এবার ভারতের অনেক বড় শিল্পপতি ঝাঁপিয়ে পড়ছে বিনিয়োগে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। ভুটানের রাজা এর মধ্যে এসেছেন গুয়াহাটি, আবার ভুটানের জাতীয় দিবসে থিম্পু ঘুরে এসেছেনঅসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে ভুটানের রাজা আর প্রধানমন্ত্রীর।

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন এই সব হচ্ছে,চিনকে সামনে রেখে ভারতকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা। এক কথায় ভূ রাজনৈতিক গত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভুটান এক সঙ্গে সম্পদ ,কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে নিতে চাইছে।ভারতও ঘরের পাশে আর একটা বাংলাদেশ বা নেপাল চাইছে না।