ফের জেলে রাজপাল যাদব 

0
212
ছবি সৌজন্যে : এক্স

চেক বাউন্স মামলার অভিশাপ কিছুতেই কাটছে না, ফলে ফের বিপাকে রাজপাল যাদব। ফেব্রুয়ারি মাসে ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট।

তবে জামিন মঞ্জুর হলেও বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল অভিনেতাকে। তবে আদালতের নির্দেশানুযায়ী মামলাকারীকে বকেয়া টাকা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন রাজপাল। সেই প্রেক্ষিতেই বলিউডের কৌতুকাভিনেতাকে ফের তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। হাম কোই মন্দির কা ঘণ্টা হ্যায়, কি কোই ভি আকে বাজা যাতা হ্যায়?, রাজপাল যাদবের এহেন বিখ্যাত সংলাপ আমজনতার পেটে খিল ধরালেও এই কথাগুলিই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল বাস্তবজীবনে।ফের মাস তিনেকের জন্য জেলের ঘানি টানতে হবে বলিউডের ছোটে পণ্ডিতকে। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে,মামলার নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও অভিনেতা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। সেই মর্মেই দিল্লি হাইকোর্ট চেক বাউন্স সংক্রান্ত সাতটি মামলায় অভিনেতা রাজপাল যাদবের সাজা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা। আগামী ৩ মাস ফের জেলেই কাটাতে হবে কৌতুকাভিনেতাকে। খবর, ওই সাতটি মামলার জন্য অভিযোগকারীকে ১ দশমিক ০৫ কোটি টাকা-সহ ১ দশমিক ০৪ লক্ষ এবং ৭৫ হাজারের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজপাল যাদবকে।এছাড়াও রাজপালের স্ত্রী রাধা যাদবকে ৫ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য ২০১০ সালে আতা পাতা লাপাতা সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি।ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এদিকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া না মেটাতে পারায় ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব।জেলযাত্রার প্রাক্কালে তিনি বলেছিলেন, আমার কোনও বন্ধু নেই যে বকেয়া টাকা মেটাবে। এর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল।সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা অর্থ ফেরত দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত।

কিন্তু দু’দফায় ২ দশমিক ২৫ কোটি টাকা মেটালেও বাকিটা বকেয়া রয়ে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের নির্দেশে এবার ফের রাজপাল যাদবকে তিন মাস জেলবন্দি থাকতে হবে।