
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। খোলা বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখে, মানে।
যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মুদ্রার এই রেকর্ড পতনের ফলে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ও শিল্পের কাঁচামাল, সব ধরনের আমদানিকৃত পণ্যের দাম সরাসরি ডলারের দরের ওপর নির্ভরশীল। ইতিমধ্যে গত দু’ সপ্তাহে দুধ, দই, ভোজ্যতেল, চাল ও রুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই দরপতন এমন এক সময়ে ঘটল যখন চলতি বছরের শুরুর দিকেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।এদিকে, রণক্ষেত্রে লড়াই কিছুটা থিতিয়ে এলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এখনো অচলাবস্থা কাটেনি। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই সংকট নিরসনে ইরান একটি প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বোমাবর্ষণের চেয়ে নৌ-অবরোধ ইরানের ওপর বেশি কার্যকর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ওপেক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের খরচ নিয়ে খোদ আমেরিকাতেই আলোচনা শুরু হয়েছে।








