সন্তানের মোবাইল আসক্তি কমান

0
120
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

সন্তান পড়তে বসতে চায় না, খেতে চায় না, কথা শোনে না,এই অভিজ্ঞতা প্রায় সব বাবা-মায়েরই হয়। ছোটবেলায় দুষ্টুমি তো সবার মধ্যেই থাকে, সে মিলেনিয়াল হোক বা জেনজি। কিন্তু জেন আলফা প্রজন্মের শিশুদের নিয়ে আজকের বাবা-মায়ের চিন্তা ভিন্ন।

এখনকার বাচ্চারা অতিরিক্ত সময় ফোনে কাটায়।রিল দেখা, গেম খেলা বা কার্টুন দেখা সবই মোবাইলের পর্দায় সীমাবদ্ধ। এই মোবাইলের নেশা তাদের জেদি ও অমনোযোগী করে তুলছে,পাশাপাশি শারীরিক ক্রিয়াকলাপও কমিয়ে দিচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই সন্তানকে স্ক্রিনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কিছু অভ্যাস বদল জরুরি।যেমন নিজে মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।বাচ্চার সঙ্গে কাটানো সময়ে হাতে মোবাইল নেবেন না।গল্প করুন, খেলুন, একসঙ্গে কাজ করুন কিন্তু ফোনের দিকে মন দেবেন না। আপনি যদি নিজে মোবাইল থেকে দূরে থাকেন, সন্তানও আপনার আচরণ অনুসরণ করবে।উল্টে,ইনডোর গেমে ব্যস্ত রাখুন,খেলাধুলার মধ্যে থাকলে বাচ্চারা মোবাইল ধরতে চায় না।তাই তাদের নানা ধরনের খেলায় যুক্ত রাখুন। সব সময় বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরেই বোর্ড গেম, পাজল, ব্লক সেট বা আঁকার সরঞ্জাম দিন। গল্পের বই, রং পেন্সিল বা সৃজনশীল কাজেও তাদের আগ্রহী করতে পারেন। এভাবে তারা স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন ভুলে যাবে।পাশাপাশি,খাওয়ার সময় মোবাইল নয়,অনেক বাবা-মা সন্তানকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল ধরিয়ে দেন, যাতে খেতে বসে থাকে।কিন্তু এই অভ্যাস ক্ষতিকর। এতে খাওয়ার প্রতি মনোযোগ থাকে না, খাবারের স্বাদ বা আগ্রহও কমে যায়। খাওয়ার সময় পরিবার একসঙ্গে গল্প করুন। তাতে খাবারও শেষ হবে, সময়ও আনন্দময় হবে।আর,ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমান।

সেইসঙ্গে একেবারে হঠাৎ করে টিভি বা মোবাইল বন্ধ করে দেবেন না। এতে শিশু আরো জেদি হতে পারে। বরং ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমান। নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। কোন সময় কতক্ষণ টিভি বা মোবাইল দেখা যাবে। নিয়মিতভাবে সীমা বজায় রাখলে আসক্তি কমে যাবে এবং স্বাস্থ্যকর রুটিন তৈরি হবে।