ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক আরো জরুরি 

0
11

পার্থ মুখোপাধ্যায় 

করোনা মহামারির মধ্যে ঢাকা সফরে গিয়ে সম্পর্ক আরো জোরদারের বার্তা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের পক্ষ থেকে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন।মহামারির কারণে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্চ মাসের সফরও স্থগিত হয়েছেএর পরও দুই দেশে শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ ও আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতেই নরেন্দ্র মোদি সরকার পররাষ্ট্রসচিবকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

ভারতীয় এক কূটনীতিক বলেছেন,ভারতের এই উদ্যোগের জোরালো প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মহামারির মধ্যে এই প্রথম তিনি কোনো বিদেশি প্রতিনিধিকে সাক্ষাৎ দিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের উন্নয়ন অংশীদারি, কানেক্টিভিটি জোরদার, কভিড-পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্জাগ্রতকরণ, কভিডের প্রভাব মোকাবেলায় সহযোগিতা, থেরাপিউটিক ও ভ্যাকসিনসহ কোভিড মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং যৌথভাবে মুজিববর্ষ উদ্যাপন নিয়ে কথা হয়েছে।মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারত একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে।

চীনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েনের আশঙ্কা নাকচ করেছেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। তাঁরা বলেছেন, আগামী কয়েক বছরের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রূপরেখার অপেক্ষায় আছেন।কোভিড মোকাবিলায় অক্সফোর্ডের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ও ভারতীয় ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের বৈঠকে এই আলোচনা হয়েছে। অক্সফোর্ডের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের সুযোগ আছে কি না, তাও দেখছে ঢাকা। এর আগে চীনের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের বিষয়ে কথা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েরটিসহ অন্য টিকাগুলো বাংলাদেশ যাতে দ্রুত পেতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন  বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকানদেরটা হোক, অক্সফোর্ডেরটাই হোক,তারা ইন্ডিয়ায় ট্রায়াল দিচ্ছে, এগুলোর সবগুলো কিভাবে এক্সস বাংলাদেশ পেতে পারে, দ্রুত, সে ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তো সেটার পার্ট হিসেবে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দু দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার আলোকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফরে গিয়েছেন। কোভিড মহামারির মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রেনগুলো চলছে। প্রতি সপ্তাহেই দু দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কোনো না কোনো অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমে রেক, মিনি রেক, সাইডডোর কনটেইনার, ফুল ফ্লেজড কনটেনার চলাচল করেছে।কোভিড মহামারির মধ্যেও ট্রেনে করে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় ও সুতো গিয়েছে ভারত থেকে। এগুলো নিয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ শ্রিংলা আলোচনা করেছেন।ভারত ত্রিপুরাতে গোমতী রুটে পণ্যবাহী যানের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করতে চায়। ওই রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য যাবে ত্রিপুরা। সেখানে বাংলাদেশি পণ্যের বড় চাহিদা আছে। জানা গেছে,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আগামী বছর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন বিষয়ে। এ ছাড়া ভারত মুজিববর্ষের বেশ কিছু অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করতে চায়।

জানা গেছে, দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে যৌথ পরামর্শ কমিশনের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই কমিশনের শেষ বৈঠক হয়েছে।পরবর্তী বৈঠকে ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা, বিশেষ করে প্রকল্পগুলো খুব বিশদভাবে দেখতে চায়।বিশ্বে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বেশি ঋণ সুবিধা দিয়েছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশকে রেলের ১০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই খুশি হয়েছেন।এগুলো বাংলাদেশে রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে কাজে আসবে।জানা গেছে, ভারত করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, মালদ্বীপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ট্রাভেল বাবল চালু করেছে। এতে দু দেশের অনেক মানুষের সুবিধা হবে। ভারত বর্তমানে সীমিত পরিসরে ও আকাশপথে যাতায়াতের জন্য বিজনেস ও মেডিক্যাল ভিসা দিচ্ছে। ট্রাভেল বাবল চালু হলে অনেকে যাতায়াত করতে পারবেন।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলেছেন। এই ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান হলো রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন।