
নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনার নেপথ্যে কোন কারণ, তা জানিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে আরপিএফ। রিপোর্টে যা বলা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তা রেলের দাবিকেই খণ্ডন করছে।
শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঘোষণা করা হয়, নয়াদিল্লি স্টেশনের ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রয়াগরাজমুখী কুম্ভ স্পেশ্যাল ট্রেন আসছে। কিন্তু কিছু সময় পরে বলা হয় ট্রেনটি ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে। ওই সময়েই নয়াদিল্লি স্টেশনের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল মগধ এক্সপ্রেস। আর ১৫ নম্বরে উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস। অন্যদিকে, প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস ধরার জন্য ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। কুম্ভ স্পেশ্যাল ট্রেন আসার ঘোষণা হওয়ার পরেই ১২-১৩ এবং ১৪-১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ওভারব্রিজে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীদের একাংশ। একই সময়ে দু’টি ওভারব্রিজের সিঁড়ি ধরে নামছিলেন মগধ এক্সপ্রেস, উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস এবং প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকেই সিঁড়িতে পড়ে যান। কেউ কেউ চোটও পান। আহত যাত্রীদের মাড়িয়েই দৌড়োদৌড়ি শুরু করে দেন অন্য যাত্রীরা।এর আগে রেলের তরফে জানানো হয়েছিল, পদপিষ্টের ঘটনার নেপথ্যে কোনও ভুল ঘোষণা ছিল না। এদিকে, নয়াদিল্লি পদপিষ্টকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের করে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুপ্রিম কোর্টে যাতে কিছু গাইডলাইন তৈরি করে তার আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারী বিশাল তিওয়ারি। মামলাকারীর আবেদনপত্রে কুম্ভমেলার পদপিষ্টের ঘটনাও উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, ভিড় নিয়ন্ত্রণে সব রকম প্রযুক্তি থাকার পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, প্রযুক্তি এবং অন্য সুযোগসুবিধা কেবল ভিআইপিদের জন্যই রাখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষ তার কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মামলাকারীর। বস্তুত শনিবার নয়াদিল্লি স্টেশনে কুম্ভমেলার পুণ্যার্থীদের ভিড়ে পদপিষ্টে মহিলা, শিশু-সহ মোট ১৮ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।



