
আগামী এক বছরের জন্য আরশাদ ওয়ারসিকে শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া,সেবি। অভিযোগ, শেয়ার বাজারে প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত আরশাদ। যথেচ্ছাভাবে, শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন তিনি।
যার জেরে বিপাকে পড়তে হয়েছে আরশাদের স্ত্রী এবং শ্যালককেও।শেয়ার বাজারে যথেচ্ছাচার চালানোর অভিযোগে তাঁদেরও নিষিদ্ধ করেছে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা,সেবি।সাধনা ব্রডকাস্ট লিমিটেড ,বর্তমানে ক্রিস্টাল বিজনেস সিস্টেম লিমিটেড নামে পরিচিত সম্পর্কিত একটি স্টক কারসাজির মামলায় স্ত্রী ,মারিয়া জরেত্তি, শ্যালক-সহ আরশাদের যুক্ত থাকার বিষয়টি গোচরে আসার পরই তাঁদের নিষিদ্ধ করে সেবি।জানা গিয়েছে, বলিউড অভিনেতার পাশাপাশি আরও ৫৮ জনকে শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ করেছে ওই সংস্থা।এঁদের মধ্যে সাত জন আগামী পাঁচ বছরের জন্য শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ, আর বাকি ৫৪ জন আগামী একবছরের জন্য শেয়ার মার্কেটে ব্যবসা করতে পারবেন না।সেবির তরফে জানানো হয়েছে, সাধনা ব্রডকাস্টের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর নেপথ্যে রয়েছেন এঁরা প্রত্যেকেই। আর সেটাই খুচরো বিনিয়োগকারীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি,শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জালিয়াতের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।এবং অবৈধভাবে আয় করা লভ্যাংশ হিসেবে মোট ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।সেবি-র মতে, আরশাদ ওয়ারসি এবং সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নিষিদ্ধ হওয়া প্রত্যেকে মণীশ মিশ্রের সঙ্গে কাজ করতেন।যিনি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভ্রান্তিকর ইউটিউব ভিডিও করার পাশাপাশি সংস্থাগুলির সম্পর্কেও রং চড়িয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন করতেন।যাতে খুচরো বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি করে আকৃষ্ট হয়ে শেয়ার কেনেন।এবং সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য, এই মণীশ মিশ্রের সঙ্গে আরশাদ ওয়ারসির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুঁজে পেয়েছে সেবি।যেখানে আরশাদ এবং তাঁর স্ত্রী-শ্যালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৫ লক্ষ টাকা ঢোকানোর কথা বলেছিলেন মণীশ।
সেবির দাবি, আরশাদ ওয়ারসি শুধু নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই নয় পাশাপাশি স্ত্রী এবং শ্যালকের অ্যাকাউন্ট থেকেও এহেন প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন। যদিও অভিনেতার দাবি, স্টক ট্রেডিংয়ের নতুন নিয়ম তাঁর জানা ছিল না।
