
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।নিয়ম অনুযায়ী শেখ হাসিনা ভারতে বৈধভাবে ৪৫ দিন আশ্রয়ে থাকতে পারবেন। তবে সেই ৪৫ দিন শেষ হয়েছে শুক্রবার।
এরপর তিনি কী হিসেবে অবস্থান করবেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক পাসপোর্টের আওতায় ভারতে ৪৫ দিন অবস্থান করতে পারবেন। অবশ্য তার সেই পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই বাতিলও করা হয়েছে।এখন শেখ হাসিনার সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে।প্রথমত, তিনি ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় পেতে পারেন।দ্বিতীয়ত, বিশেষ রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে পারেন।তৃতীয়ত, তিনি তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় পেতে পারেন। সূত্র বলছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে।এ ছাড়া শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ভারতের সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।সে কারণে শেখ হাসিনাকে বিশেষ বিবেচনায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হতে পারে। আর সেটা হতে পারে তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামার মতোই। উল্লেখ্য তিব্বতে বৌদ্ধদের আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু ১৯৫৯ সাল থেকে ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন। ভারতের ইতিহাসে কোনো বিদেশি ধর্মীয় নেতাকে বিশেষ রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা ছিল সেটিই প্রথম। তার পর থেকে ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতেই আশ্রয়ে রয়েছেন দালাই লামা।এবার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে শেখ হাসিনাও ভারতে দালাই লামার মতোই আশ্রয় পেতে যাচ্ছেন এমনটা মনে করা হচ্ছে। এদিকে ভারতের প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিবিদদের আশ্রয় দেওয়ার অতীত ইতিহাসও রয়েছে। শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের পর ভারতেই আশ্রয়ে ছিলেন। সে সময় দীর্ঘ ছ’ বছর তিনি সেখানে থেকেছেন। ১৯৯২ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজিবুল্লাহর পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। তবে সে সময় নজিবুল্লাহ দিল্লিতে আসতে ব্যর্থ হন। পরে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ২০১৩ সালে মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় ভারত। এ ছাড়া ১৯৫০ সালে নেপালের মহারাজা ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহকেও আশ্রয় দিয়েছিল ভারত।এই অবস্থায় ভারতে শেখ হাসিনা কী স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন,সেটা এখনো অজানা। এর আগে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে জানিয়েছেন,বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক রয়েছে। দু’ দেশের মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও রয়েছে। ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলেই সম্পর্কটা রাখতে চায়।
