শর্ট ভিডিও : স্বাস্থ্য টোটকার অর্ধেকের বেশি ‘ভুয়ো’

0
171
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

এখন শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকে নানারকম পরামর্শ মেলে।এর মধ্যে শীর্ষ ট্রেন্ডিং ভিডিও তালিকায় রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ। নতুন এক গবেষণা বলছে, এসব পরামর্শের অর্ধেকেরও বেশি ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক সহায়তা খোঁজার প্রবণতা সম্প্রতি বাড়লেও,অনেক ইনফ্লুয়েন্সারই সেখানে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষিত না হয়েও থেরাপির ভাষা ব্যবহার করছেন, দিচ্ছেন দ্রুত সমাধানের প্রলোভন ও করছেন ভিত্তিহীন সব দাবি।

 বলা হচ্ছে,এসব চটকদার প্রচার প্রায়শই বিপজ্জনক হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন টিকটকে মেন্টালহেলথটিপস হ্যাশট্যাগের অধীনে থাকা শীর্ষ ১০০টি ভিডিও গবেষকরা বিশ্লেষণের জন্য তুলে দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও অ্যাকাডেমিকদের হাতে।দেখা গেছে,এসব ভিডিওর মধ্যে ৫২টিতেই ছিলো কোনো না কোনোভাবে ভ্রান্ত বা ভুল তথ্য। অন্য অনেক ভিডিও ছিলো অস্পষ্ট বা কোনো কার্যকর দিকনির্দেশবিহীন।উদাহরণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন, উদ্বেগ কমাতে স্নানের সময় কমলালেবু খাওয়ার পরামর্শ, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন নানা সাপ্লিমেন্ট যেমন জাফরান, ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেট, বা হলি বাসিল প্রচার,এক ঘণ্টায় ট্রমা সারানোর পদ্ধতি এবং সাধারণ আবেগীয় অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিত্বের রোগ বা মানসিক নির্যাতনের লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো তত্ত্বগুলো।সেইসঙ্গে অনেক ভিডিওতে থেরাপির ভাষা ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে। যেমন,ওয়েলবিয়িং, অ্যাংজাইটি এবং মেন্টাল ডিজঅর্ডার শব্দগুলো একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।এতে বরং রোগ সারানোর বদলে মানসিক রোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে বলে মত।

বলা হচ্ছে ,এ ধরনের ভিডিওগুলো প্রায়ই খুব সংকীর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সবার বেলায় না-ও খাটতে পারে। ব্রিটেনের প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড্যান পল্টার বলেছেন, কিছু ভিডিওতে সাধারণ আবেগীয় প্রতিক্রিয়াকেও রোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা। এতে মানসিক রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয় এবং যারা প্রকৃত মানসিক রোগে ভুগছেন, তাদের বাস্তবতা হালকাভাবে দেখা হয়।