
সাধারণতঃ বলা হয় রোগবালাইয়ের বড় শত্রু হল বাড়তি ওজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ওজন কমাতে নিয়ম করে শরীরচর্চা করতেই হবে। এদিকে শরীরচর্চা আদতে বেশ পরিশ্রমের। স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে অনেকেই জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন।
শরীরচর্চায় এমন মগ্ন হয়ে পড়ছেন যে, শরীরের ভালমন্দও অনেক সময়ে চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যায়াম করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, বুকে ব্যথা নিয়ে হঠাৎই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। অনেকেই জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিশ্রম শুরু করেছিলেন। ফিটনেস বৃদ্ধি করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক কসরতও করতেন। তাতেই হয়েছে সমস্যা। অতিরিক্ত শরীরচর্চায় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।এখন প্রশ্ন হল ব্যায়াম করতে গিয়ে কোন কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন, বন্ধ করবেন শরীরচর্চা।উত্তর হলো,দীর্ঘ ক্ষণ ধরে ট্রেডমিলে হাঁটলে, ওজন তুললে এমনিতেই জল তেষ্টা পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তেষ্টার মাত্রা যদি বেশি হয়, তা হলে এক বার খেয়াল করা জরুরি।গলা, মুখের ভিতর যদি অত্যধিক শুষ্ক হয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে শরীরে জলের পরিমাণ কমে গিয়েছে। সে অবস্থায় ভারী শরীরচর্চা করলে মুশকিল হতে পারে।সেই সঙ্গে শরীরচর্চার সময় বলে নয়, যে কোনও সময়ে টান ধরতে পারে পেশিতে। আর এই সমস্যার অন্যতম কারণ হল, শরীরে পর্যাপ্ত জলের অভাব। শরীরে জলের পরিমাণ যখন কমে যায়, তখনই এমন হয়।তাই শরীরচর্চার ফাঁকে হঠাৎ যদি পেশিতে খিঁচুনি অথবা টান ধরে, তা হলে সেই মুহূর্তে শরীরচর্চা বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। না হলে কিন্তু চোট-আঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।পাশাপাশি,বুক ঢিপঢিপ, মাথা ঘোরা, চোখমুখে অন্ধকার দেখা, শরীরচর্চার সময়ে মাঝেমাঝেই এই উপসর্গগুলি দেখা দেওয়ার মানে শরীর অত্যধিক দুর্বল হয়ে পড়েছে। শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলেই সাধারণত এমন হয়। বেশি দুর্বল লাগলে ব্যায়াম না করাই শ্রেয়।অন্যদিকে কায়িক পরিশ্রম বেশি হলে মাথা যন্ত্রণা হওয়া স্বাভাবিক। এ ছাড়া শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলেও অস্বাভাবিক মাথা যন্ত্রণা হয়। ব্যায়ামের ফাঁকে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে জল খেয়ে, বিশ্রাম নেওয়াই ভাল।
এর বাইরে, সবাই জানেন বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সাহায্যে শরীরচর্চা করা বেশ কষ্টসাধ্য। পরিশ্রম বেশি হয়। কিন্তু অনেক সময়ে যতটা পরিশ্রম করার কথা, শরীর ঠিক ততটা করতে পারে না। জলের পরিমাণ কমে গেলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে। এমন হলে শরীরচর্চায় বিরতি নেওয়া প্রয়োজন।
