
বৈশাখের শেষ দিকে যেন দাপট দেখাতে শুরু করেছে গ্রীষ্ম।কাঠফাটা রোদ আর গরমে নাজেহাল অবস্থা সবার। এই সময় নানারকম সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।শারীরিক সমস্যা তো লেগে থাকেই।সেই সঙ্গে গরমকালে নতুন একটা সমস্যা হলো ত্বকের।
বিশেষ করে যাদের খুব তৈলাক্ত ত্বক বা সেন্সেটিভ স্কীন গরম আর ঘামের দাপটে তাদের অবস্থা খুব খারাপ।এখন প্রশ্ন হলো,তাই বলে কি গরমে ঘর থেকে বের হবেন না? গরম যেমনই হোক না কেন, আর ঘর থেকে বের হন আর না হন, ত্বকের যত্ন নিতে হবেই। কারণ, এই সময় আবহাওয়া পরিবর্তন হয়, ফলে শরীর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের যত্ন নেওয়াটাও জরুরি। তাই,গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, সারা বছর ত্বককে তরতাজা রাখতে ঘরোয়া উপায়েই নিজেকে আরো সুন্দর করে তুলুন। যাতে আপনার সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে।তবে গ্রীষ্মের দিনগুলোতে নিঁখুত ত্বক পেতে গেলে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি। যেগুলো মেনে চললে রুক্ষ শুষ্ক ত্বক ভেতর থেকে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।যেন ভেতর থেকে কথা বলবে ত্বক। এখন প্রশ্ন হলো,কোন কোন উপায়ে গরমেও ঘরেই ত্বকের যত্ন নেবেন। যেমন,গরমকালে মুখের প্রধান সমস্যা হলো ব্রণ, র্যাশ, ফুসকুড়ি। পেট পরিস্কার না হওয়া। বাইরের ধুলোবালি থেকে ঘরে ফেরার পর ঠিকমতো মুখের কেয়ার না করলে এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে ব্রণের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমের পাল্পের সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ দিয়ে ফেলুন।স্নানের পর বা রাতে শোয়ার আগে মুখে হালকা কোনো ফেস সিরাম ব্যবহার করুন।এই বিষয়ে কোনো চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ত্বকের জন্য উপযোগী কোনো সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি,গরমকালে রাস্তায় বের হওয়ার আগে যেমন প্রচুর জল পান করবেন, তেমনই এই সময় ভালো করে সানস্ক্রীন লাগিয়ে বাইরে যাবেন। এতে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে। চোখ মুখে কালোছোপ বা ট্যান পড়বে না। অন্যদিকে, স্নানের আগে হোক বা পরে।অথবা বাইরে বাড়ি ফিরে এসে ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে গোলাপ জল বা অন্য কোনো ময়েশ্চারাইজার মুখে লাগাতে পারেন। এতে নিজেকে যেমন ফ্রেশ লাগবে তেমনই ভেতর থেকে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ত্বক।এ ছাড়া শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এবং রক্ত পরিস্কার করতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
এই সময়ে বিভিন্ন ঠাণ্ডা পানীয় জুস, সিরাপ, ডাবের জল, আখের রস, শরবত ইত্যাদি পানীয় পান করতে পারেন।তবে মনে রাখবেন শরীর স্বাস্থ্য ও ত্বককে ভেতর থেকে ফিট রাখতে প্রচুর পরিমাণ জল পানের পাশাপাশি সবুজ শাক-সবজি খাওয়া এবং ব্যায়াম করাটাও জরুরি।
