
অনেকে প্রশ্ন করেন, সুখটান কি হাঁটুর ব্যথার কারণ হতে পারে? এমনিতে ধূমপানের অজস্র মন্দ দিক সম্পর্কে ধূমপায়ীরা ওয়াকিবহাল।ফুসফুস, হার্ট, কণ্ঠনালীর রোগ, ক্যানসারের মতো জটিল অসুখের সতর্কবাণী এড়িয়েও তাঁরা নিয়মিত ধূমপান করেন।
কারণ, কোনওটাই বাহ্যিক জরার ভয় দেখায় না সে ভাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ধূমপান নিয়মিত করলে সেই সমস্যাও হতে পারে।বলা হচ্ছে,৪৫-৫০ বছর বয়সের পর থেকে যে হাঁটু, কোমর, পা, কব্জি, কাঁধ, ঘাড়ের টনটনে ভাব অনুভব করতে শুরু করেন অধিকাংশ মানুষ, তার নেপথ্যে থাকতে পারে অতিরিক্ত তামাক সেবনই। বয়সজনিত ক্ষয় তো আছেই। তার পাশাপাশি, ধূমপান হাড়ের ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করে। কারণ, ধূমপান করলে কমতে থাকে হাড়ের ঘনত্ব। যা তেমন পরিস্থিতিতে বিছানাবন্দিও করে ফেলতে পারে রোগীকে।এখন প্রশ্ন হলো,কেন ধূমপান হাড়ের জন্য ক্ষতিকর? উত্তর হলো,তামাকে থাকা নিকোটিন রক্তনালীকে সরু করে দেয়। ফলে হাড়ের কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না।ধূমপায়ীদের শরীর খাদ্য থেকে ক্যালশিয়াম শোষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, আর ক্যালশিয়ামের অভাবে হাড় ভঙ্গুর হতে থাকে।এক দিকে হাড়ের কোষে অক্সিজেন এবং পুষ্টির অভাব, তার উপর ক্যালশিয়াম না পাওয়ায় অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ও বাড়তে থাকে। ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যিনি ধূমপান করেন না, তাঁর তুলনায় একজন ধূমপায়ীর ভাঙা হাড় জোড়া লাগতে সময় লাগে অনেক বেশি।
তার কারণ, নিকোটিন নতুন হাড় তৈরির কোষ বা অস্টিয়োব্লাস্ট গঠনে বাধা দেয়। এছাড়া হাড় ভাঙার পরে অস্ত্রোপচার হলে, তা থেকে ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে। এই অবস্থায় হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চাইলে এবং বার্ধক্যে পঙ্গুত্ব এড়াতে চাইলে ধূমপান না করাই একমাত্র সমাধান।তবে তার পাশাপাশি, ক্ষতি পূরণ করতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি।







