
গত বছর নয়াদিল্লিতে জি টোয়েন্টি ঘোষণাপত্রে ৭টি অনুচ্ছেদ ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দা করে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সতর্কবার্তাটি হুবহু তুলে বলা হয়েছিল, এই কালখণ্ড যুদ্ধের নয়।
মস্কোকে সঙ্গে নিয়ে এ হেন ঘোষণাপত্রের জন্য আয়োজক দেশ হিসেবে সেই সময়ে বিশ্বের বড় অংশের প্রশংসা কুড়িয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার।ব্রাজিলের রিয়ো ডি জেনিরোতে এ বারের জি২০ সম্মেলন শেষে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে দেখা যাচ্ছে,রাশিয়া সম্পর্কে তার অবস্থান তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই নরম। সাতটি দূরস্থান, মাত্র একটি অনুচ্ছেদ বরাদ্দ হয়েছে ইউক্রেনের বিভীষিকা নিয়ে। যুদ্ধের সময় নয় কথাটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।যুদ্ধের কুফল, মানুষের দুর্দশা নিয়ে সাধারণ সামাজিক দৃষ্টিকোণে বক্তব্য রয়েছে,কিন্তু ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিন্দুমাত্র সমালোচনা করা হয়নি ঘোষণাপত্রে।সব মিলিয়ে এই যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের উল্লেখ নামমাত্র।বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে গত বছরে মানবিক দুর্দশা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল,তার সূত্র ধরে বলা যাচ্ছে যে, বিষয়টির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তায়। বলা হয়েছে, সমস্ত রাষ্ট্রের মধ্যে ভাল, বন্ধুত্বপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক তৈরির জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদে নির্দিষ্ট নীতিগুলিকে তুলে ধরতে এবং স্থায়ী, সামগ্রিক, ন্যায্য শান্তির পরিবেশ গড়তে সাহায্যকারী সমস্ত গঠনমূলক আলোচনা ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।এদিকে কদিন আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি ডিক্রিতে সই করে নতুন ভাবে পরমাণু আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন, যার প্রথম লক্ষ্য ইউক্রেন। ওই ডিক্রিতে বলা হয়েছে, পরমাণু শক্তিধর নয় এমন রাষ্ট্র যদি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সাহায্য পায়, তা হলে আত্মরক্ষার্থে তার উপরেও পারমাণবিক আক্রমণ চালাতে পারবে মস্কো। এমন মারাত্মক একটি ডিক্রি নিয়েও একটি শব্দ নেই রিয়ো বিবৃতিতে।
সূত্রের খবর,পশ্চিমের দেশগুলি রাশিয়া সম্পর্কে এই নরম নীতি নেওয়ার বিরোধিতা করেছিল বৈঠকে,কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিবৃতির ভাষা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় এই বিবৃতিতেই তারা সন্তুষ্ট থেকেছে। তবে বাইরে ব্রিটেন জার্মানি, কানাডার মতো অনেক দেশের নেতাই স্বর তুলেছেন বিবৃতির বিরুদ্ধে।






