ছেলের আত্মহত্যা, মায়ের মামলার মুখে গুগল ও এআই

0
128
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

আমেরিকার ফ্লোরিডার এক মহিলা মেগান গার্সিয়া তার ১৪ বছর বয়সী ছেলের আত্মহত্যার পেছনে এআই চ্যাটবটের ভূমিকার অভিযোগ এনে গুগল এবং ক্যারেক্টার.এআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।ওই মামলায় দাবি করা হয়, চ্যাটবটটের নানা কারসাজির কারণে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমেরিকার একজন বিচারক রায় দিয়েছেন, মামলাটি সামনে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

তিনি মামলাটি খারিজ করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ঘটনাটি এআই কম্পানির জবাবদিহিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ।মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক অ্যান কনওয়ে জানিয়েছেন, মামলাটি বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত যুক্তি, গুগল ও ক্যারেক্টার ডট এআই দেখাতে পারেনি এবং আমেরিকার সংবিধানে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়। এই মামলাটি আমেরিকাতে এআই কম্পানির বিরুদ্ধে শিশুদের মানসিক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রথম মামলাগুলোর একটি। গার্সিয়ার অভিযোগ, তার ছেলে সিউয়েল সেটজার ক্যারেক্টার ডট এআই-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর আত্মহত্যা করে।অন্যদিকে ক্যারেক্টার ডট এআই-এর মুখপাত্র জানিয়েছে, তারা এই মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।তিনি আরো জানিয়েছেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুরা যেন ক্ষতিকর আলাপচারিতায় না জড়ায়, সে বিষয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে আত্মহত্যার বিষয়ে আলোচনা প্রতিরোধের ব্যবস্থাও রয়েছে।গুগলের মুখপাত্র জোসে কাস্তানেদা জানিয়েছেন, কম্পানিটি আদালতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়।তিনি আরো বলেছেন, গুগল ও ক্যারেক্টার ডট এআই একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং গুগল ক্যারেক্টার ডট এআই-এর অ্যাপ বা তার কোনো উপাদান তৈরি, ডিজাইন বা পরিচালনা করেনি।

গার্সিয়ার আইনজীবী মিতালি জৈন এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এটি এআই ও প্রযুক্তি জগতে নতুন আইনি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। উল্লেখ্য, ক্যারেক্টার ডট এআই গুগলের প্রাক্তন দুই ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করেছেন, যাদের পরবর্তীতে গুগল পুনরায় নিয়োগ করে এবং তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স গ্রহণ করে।