ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে মশলা 

0
144
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

সাধারণতঃ বলা হয়,ক্যান্সার হওয়ার পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। এক জেনেটিক্স ও দুই লাইফস্টাইল।

 

পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ক্যান্সারের কোষ বাড়তে পারে। কিন্তু আজকাল যে হারে ক্যান্সারের আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তাতে শুধু জিনগত কারণ দায়ী নয়। চিকিৎসকেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলকেই ক্যান্সারের কারণ বলছেন।ক্যান্সারের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে গেলে প্রসেসড ফুড, মদ্যপান, ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।মূলত শাকসবজি, ফল-মূল ইত্যাদি খেলেই যে কোনো ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে, বেশ কিছু মশলা রয়েছে, যার মধ্যে ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান রয়েছে মশলার মধ্যে।যেমন,হলুদের মধ্যে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ পাওয়া যায়।এটি দেহে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হিসেবে কাজ করে।হলুদ ব্রেস্ট, কোলন ও প্যানক্রিয়াসে ক্যান্সারের কোষকে গঠন হতে দেয় না।এমনকি, রেডিয়েশন থেরাপির সময় ভালো কোষকেও ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচায়।আবার,লঙ্কার গুঁড়োর মধ্যে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান রয়েছে। এই মশলার মধ্যে বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে,যা ক্যান্সারের সেলের জন্য টক্সিক। তা ছাড়া, লঙ্কার গুঁড়োর মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে,যা শরীরের ক্রনিক প্রদাহ কমায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।এই মশলায় এমন বেশ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করে।অন্যদিকে,খাবারে স্বাদ আনার পাশাপাশি দেহে একাধিক উপকারিতা প্রদান করে দারুচিনি। এই মশলার মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে,যা ক্যান্সারের কোষকে বাড়তে দেয় না।দারুচিনির মধ্যে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে,যা কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এর জেরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। এমনকি, এই মশলায় কিছু অ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে, যা টিউমারকেও বাড়তে দেয় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।ওদিকে,নিরামিষ খাবারের নাম শুনলেই অনেকের ভ্রু কুঁচকে যায়।কিন্তু পনির থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়। তাছাড়া, পনির দিয়ে রকমারি পদও রান্না করা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে কতটা উপযোগী পনির,আদৌ কি শরীরের কোনো লাভ হয় এই খাবার খেলে? আসলে পনিরের মধ্যে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। ফলে যারা আমিষ খাবার খান না, তারা পনির খেয়ে দেহে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে পারেন। পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেহে একাধিক কার্যকারিতা সম্পন্ন করার জন্য প্রোটিন জরুরি।পনিরের প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা দেহে নানা ফাংশনের জন্য অপরিহার্য।প্রোটিনের পাশাপাশি পনিরের মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি রয়েছে। এই দুই পুষ্টিই হাড়ের স্বাস্থ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য।দেহে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকে,সে ক্ষেত্রে অস্টিওপোরসিসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুতরাং, যে কোনো একটা পুষ্টির ঘাটতি থাকলেই হাড় সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দেবে।তাই ব্রেকফাস্ট হোক কিংবা ডিনার, যে কোনো সময় পনির খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্টে পনির খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকবে। এতে মুখরোচক খাবার খাওয়া কিংবা বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। আরও সহজ হয়ে উঠবে ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এমনকি, ওয়েট লসের ডায়েটেও পনির রাখতে পারেন।ওদিকে,ডায়াবেটিসের রোগীদের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সচেতন থাকতে হয়। তবে,পনির খাওয়ায় কোনো বারণ নেই। পনিরের মধ্যে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।এটি এক প্রকার নিউরোট্রান্সমিটার, যা দেহে অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি গ্লুকোজ় মেটাবলিজমে সাহায্য করে। এর জেরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।আসলে,পনিরের মধ্যে যে ফ্যাট পাওয়া যায়, তা কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।পনিরের মধ্যে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। এই ফ্যাটগুলো রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।এছাড়া পনিরের মধ্যে জিঙ্ক রয়েছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।

 

এছাড়াও, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মজবুত করতে সাহায্য করে পনির। পনিরের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শারীরিক প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।