গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

27 C
Kolkata
27 C
Kolkata
More
    Home Editorial চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ভারত

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ভারত

    0
    398
    Sri Chinmoy Krishna Das
    Sri Chinmoy Krishna Das

    বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

    এদিকে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি বিবৃতি দিয়েছে।ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার ও তার জামিন নাকচ করার বিষয়টি নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার পরে এমন ঘটনা ঘটল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের পাশাপাশি চুরি, প্রতিমা ও মন্দিরের পবিত্রতা নষ্টের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলাহয়েছে,বাংলাদেশে যারা এই ধরনে ঘটনা ঘটাচ্ছে অপরাধীরা বড় আকারে রয়েই গেছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি উপস্থাপনকারী একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা উচিত। ভারত , সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

    ভারত  শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারসহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে হিন্দু এবং সকল সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছে।

    এর আগে বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও হাটহাজারী পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করেছে চট্টগ্রাম আদালত। জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়।মঙ্গলবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলার পর জামিন নামঞ্জুর করা হয়।এর আগে তাকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেওয়ার সময় কারাগারে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার আদেশও দিয়েছে আদালত।

    এর আগে সোমবার ,২৫ নভেম্বর বিকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করে।

    উল্লেখ্য, ইসকনের সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের হয়েছিল।এই মামলায় অভিযুক্ত চিন্ময় প্রভু-সহ মোট ১৯ জন। সে সময় বন্দরনগর চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে জাতীয় পতাকার উপরে গেরুয়া ধ্বজা টাঙানোর অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী ও ইসকন প্রবর্ত্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ দাশ ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ১৭ জন। ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি সকলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদোহ মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগেই সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় প্রভুকে।ওই গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে সোমবার রাত থেকে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু করেন বাংলাদেশের হিন্দুরা। এদিকে বাংলাদেশে ইসকনের সন্ন্যাসী তথা বাংলাদেশের সম্মিলিত জাগরণ জোটের প্রধান মুখপাত্র চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, কলকাতার ইসকন কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাসের স্পষ্ট বক্তব্য, বিক্ষোভ থামাতেই তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে।শুধু চিন্ময় প্রভুই নন, বাংলাদেশে আরও বেশ কয়েকজন হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। এটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। ভারত সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন রুখতে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

    সব মিলিয়ে ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে ক্রমেই জটিল হচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।  সেখানকার সংখ্যালঘু এবং সনাতন ধর্মালম্বী মানুষজন ক্রমেই ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন।  রাষ্ট্রের তরফে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার বলা হলেও তা যে কার্যত অরণ্যে রোদন তা গত দু মাসের বিভিন্ন ঘটনায় স্পষ্ট। প্রতিবেশী ভারত থেকে আমেরিকা ,বিভিন্ন দেশের তরফে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু এবং সনাতন ধর্মালম্বী মানুষজনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং তারপ্রেক্ষিতে ঢাকার আশ্বাস থাকলেও তাতে যে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না ,তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    ছবি  সৌজন্যে : এক্স