শীত-গরমে পেটের রোগ

0
66
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

মরসুম বদলের সময়ে জ্বর, পেটখারাপের খবর। শীতের শেষ ও বসন্তের সূচনা হচ্ছে মানে, ভাইরাল জ্বরের খবর। প্রতি বছরই তা হয়। তবে যে কারণে চিন্তা বাড়ছে, তা হল পেটের রোগ। শিশুরা এত বেশি ডায়েরিয়ায় ভুগছে যে, চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে বাবা-মায়ের।

এই সময়টা আবার বিয়েবাড়ির মরসুমও। অনেকেই ভাবছেন, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়মের কারণে হয়তো পেটের অসুখ হচ্ছে। কিন্তু ঠিক তা নয়। খাওয়া যেমন একটি বিষয়, তেমনই পেটের রোগ যে এমন দাবানলের আকার নিয়েছে, তার নেপথ্যে আরও কিছু কারণ রয়েছে।দেশের নানা রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ,আইসিএমআর। জানানো হয়েছে, শীত ও গরমের এই সন্ধিস্থলে একগুচ্ছ ভাইরাস সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে রয়েছে নোরোভাইরাস, রোটাভাইরাস, যাদের কারণে ,ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস নামক রোগ হয়। চিকিৎসকেরা যাকে বলেন,স্টমাক ফ্লু। এটি হলে পেটের রোগ সহজে সারবে না।পেটখারাপ লেগেই থাকবে, বমিও হতে পারে। পেটের ব্যথাও হবে। আরও একটি ভাইরাস আছে, যার নাম অ্যাস্ট্রোভাইরাস, যেটি ছোটদের ও বয়স্কদের পেটের রোগের জন্য দায়ী।শিশুদের ভাইরাল জ্বর ও পেটখারাপের নেপথ্যে রয়েছে,অ্যাডিনোভাইরাস। এখন তো আবার এই ভাইরাস রূপ বদলে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে সতর্কও করেছিলেন গবেষকেরা।অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া ও দূষিত জল তো রয়েছেই, তার বাইরেও ভাইরাস ঘটিত কারণে পেটের রোগ এত বেড়েছে। পাশাপাশি ঋতুবদলের সময়ে জীবাণুদের বংশবৃদ্ধি হয়। সে কারণেই জ্বর, পেটের রোগ বাড়ে। নোরোভাইরাস, রোটাভাইরাসের সংক্রমণে আচমকা পেটখারাপ, সঙ্গে জ্বর, বমি, পেটে যন্ত্রণা হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর ফলে শরীরে জলের অভাব ঘটে। কোনও শিশু আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগলে বা সময় মতো হাসপাতালে না পৌঁছলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। দেখা যাচ্ছে,ছোটরা শুধু নয়, বড়রাও এখন সংক্রমণের শিকার। ডায়াবিটিস, কিডনির রোগ রয়েছে অথবা ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে, এমন রোগীরা পেটের সমস্যায় বেশি ভুগছেন।বলা হচ্ছে,ভাইরাসের কারণে খাদ্যনালিতে সংক্রমণও ঘটছে।অনেক সময়ে দেখা যায়, ভাইরাসের সংক্রমণে পেটে বিষক্রিয়া হয়েছে।এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়েও পড়তে পারে।অন্যদিকে, পেটখারাপের অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমবেশি সকলেরই আছে। এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, বেশির ভাগ পেটের সমস্যার কারণ ভাইরাস। তাই এমন রোগে অ্যান্টিবায়োটিক চলে না। ভুলটা সেখানেই হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে পেট সাময়িক ভাবে সারছে ঠিকই,, তবে অন্য সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। কিছু দিন পরে আবারও ডায়েরিয়া, জ্বর হচ্ছে। আর এই ডায়েরিয়া ওষুধেও সারছে না।পরবর্তী সময়ে গিয়ে আবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।দেখা যাচ্ছে,স্টমাক ফ্লু সাধারণত তিন থেকে চার দিনে ঠিক হয়ে যায়।

তাই শুরুতেই ওষুধ না খেয়ে উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখতে বলছেন চিকিৎসক। ঘরের তৈরি খাবার, পর্যাপ্ত জল খেলে পেট ঠিক হয়ে যেতে পারে তিন থেকে চার দিনেই। তবে যদি তা না হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসককে দেখিয়ে নির্ধারিত ওষুধ খাওয়াই উচিত।