গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

28 C
Kolkata
28 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle প্রায়ই পেট ব্যথা? 

    প্রায়ই পেট ব্যথা? 

    0
    84
    ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

    আপনি কি প্রায়ই পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পটির সমস্যায় ভোগেন? খাওয়ার পর পেট ফুলে যায় বা অস্বস্তি লাগে? তাহলে হতে পারে আপনি আইবিএস-এ আক্রান্ত।আসলে আইবিএস হচ্ছে হজমতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা অন্ত্রে প্রভাব ফেলে।

    এতে খাবার হজমের গতি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়,কারো ক্ষেত্রে খুব ধীরে, আবার কারো খুব দ্রুত। ফলে দেখা দেয় নানা রকম উপসর্গ। আইবিএস-এর প্রধান লক্ষণের মধ্যে আছে,একটানা ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য,তলপেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা, যা টয়লেটে গেলে কমে,পেট ফাঁপা ও ভারী অনুভব,হঠাৎ টয়লেটের বেগ, নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,পটির সঙ্গে শ্লেষ্মা বের হওয়া,ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, কিন্তু পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভূতি,কখনও বমি বমি ভাব, ঢেকুর, বুক জ্বালাপোড়া বা ক্লান্তি।এই উপসর্গগুলো কখনো কয়েকদিন, আবার কখনো মাসজুড়ে চলতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে মানসিক চাপ বা কিছু নির্দিষ্ট খাবার এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো,কারা বেশি ঝুঁকিতে? উত্তর হলো,যারা নিয়মিত মানসিক চাপে থাকেন,যাদের পরিবারের কারো আইবিএস রয়েছে, যাদের খাবার-দাবারে অনিয়ম করেন।বলা হয়,মেয়েদের মধ্যে ও এশিয়ান শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।এদিকে,আইবিএস নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। সাধারণত লক্ষণ দেখে, রক্ত ও মলের কিছু সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা রোগটি চিহ্নিত করেন।তবে,এ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ খেলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।এই অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে,আঁশযুক্ত খাবার খান যেমন ওটস, বার্লি, শাকসবজি, খোসাবিহীন আলু।ডায়রিয়া থাকলে,হালকা কম আঁশযুক্ত খাবার যেমন বাদামি চাল-রুটি খান। প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন,পুদিনা বা ক্যামোমাইল চা কিছুটা উপকারে আসতে পারে।সেইসঙ্গে,দই বা প্রোবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস করুন।পাশাপাশি এড়িয়ে চলুন,বাইরের বাসি ও ভাজাপোড়া খাবার,ক্যাফেইন, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল,অতিরিক্ত তেল, চর্বি, মসলা,যেসব খাবার হজমে সমস্যা হয় যেমন বাঁধাকপি, ব্রোকলি, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি।দুধ বা গ্লুটেনজাত খাবারে অস্বস্তি হলে সেগুলোকেও বাদ দিন।সেইসঙ্গে,জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন।প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন,প্রতিরাতে ৮–৯ ঘণ্টা ঘুমান,এক বেলা খাবার বাদ দেবেন না,একবারে বেশি না খেয়ে অল্প করে বারবার খান,ধীরে, মনোযোগ দিয়ে খাবার চিবিয়ে খান,মানসিক চাপ থাকলে মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিন।আর প্রশ্ন হলো,কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? উত্তর হলো,লক্ষণ যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়,পটির সঙ্গে রক্ত বের হলে,পেট ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেলে,ওজন অনিচ্ছাকৃতভাবে কমে গেলে এবং বয়স ৫০-এর বেশি হলে।

    আসলে আইবিএস খুব সাধারণ হলেও দীর্ঘদিন উপসর্গ থাকলে তা মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই উপসর্গগুলো গোপন না রেখে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করান।