Tuesday, June 28, 2022
লাইফস্টাইলনাক থেকে রক্তপাত বন্ধে 

নাক থেকে রক্তপাত বন্ধে 

গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে একবার হলেও নাকে রক্তপাত হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। যদিও এটি অনেকের হয়ে থাকে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর বিষয় নয়।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সিরিয়াস হয়ে থাকতে পারে এবং কিছু জটিল রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা যেতে পারে। নাকের এক পাশ অথবা উভয় পাশ দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।কখনো নাকের সামনের অংশ, আবার কখনো নাকের পেছনের অংশ থেকে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মুখ বা গলা থেকে রক্তপাত হতে দেখা যায়।এখন প্রশ্ন হলো কাদের বেশি হয়?সাধারণত বাচ্চাদের ,দু’ থেকে ১০ বছর বয়স,বেশি হয়ে থাকে। কারণ তারা খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে নাকে প্রায়ই ব্যথা পায় অথবা নাকের ভেতর আঙুল, কাঠি বা খেলনা দিয়ে খোঁচাতে থাকে অথবা যেকোনো ফরেন বডি , মানে বহিরাগত পদার্থ,যেমন,খেলনার ছোট পার্টস, ব্যাটারি, শস্যদানা, ফোম, কাগজ ইত্যাদি নাকের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে ঢুকিয়ে রেখে দিতে পারে, যেটি নজরের বাইরেই থেকে যায়। দ্বিতীয় গ্রুপ হচ্ছে বয়স্ক ব্যক্তিরা, যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের ওপর। এই বয়সে মানুষের রক্তের ক্লটিং টাইম মানে রক্ত জমাট বাঁধার সময়,সাধারণত বাড়তে দেখা যায়। অনেকে হার্ট ডিজিজ বা ক্লটিং ডিজিজে ভোগেন। অনেকে রক্ত পাতলা করার জন্য এসপিরিন, ওয়ারফেরিন, ক্লপিডোগ্রেল জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি হয়। এ ছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে রক্তনালি ফুলে যাওয়ার কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।অন্যদিকে,নাক থেকে বিভিন্ন কারণে রক্তপাত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কারণ বের করা যায় না। একে বলা হয় ইডিওপেথিক বা অজানা কারণ। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কারণই অজানা। অন্যান্য কারণের মধ্যে লোকাল বা অন্যান্য অসুখের উপসর্গ হিসেবে রক্তপাত হতে পারে।নাকে যেকোনো ধরনের আঘাত লাগা, নাকের অপারেশন, নাকের ভেতর আঙুল, কাঠি, কটন বাড বা অন্য কিছু দিয়ে চুলকানো, খোঁচানো বা পরিষ্কার করার কারণে রক্তপাত হতে পারে।সেক্ষেত্রে,নাক থেকে রক্ত পড়লে ঘাবড়ে যাবেন না। নাকে ছোট ছোট রক্তনালি থাকে। তাই অনেক রক্ত পড়তে পারে। রক্ত দেখেই অনেকে ঘাবড়ে যায়। ঘাবড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়।সেজন্যে রোগীকে প্রথমত রিলাক্স হতে হবে। রোগীকে প্রথমে চেয়ারে বসিয়ে শরীর ও মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখবেন। এরপর রোগী নিজে কিংবা না পারলে অন্য কেউ নাকের সামনের নরম অংশটি শক্ত করে দুই পাশ থেকে আঙুল দিয়ে চেপে পাঁচ মিনিট ধরে বন্ধ রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে মুখটি হাঁ করে থাকবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য।পাঁচ মিনিট পর চাপ ছেড়ে দিয়ে চেক করবেন রক্তপাত বন্ধ হয়েছে কি না। যদি বন্ধ না হয় আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট একইভাবে চাপ দিয়ে নাক বন্ধ রাখব। এই সময়ের মধ্যে নিকটস্থ হাসপাতাল বা অ্যাম্বুল্যান্সের খোঁজ করতে হবে। রোগীর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ব্লাড প্রেসার চেক করুন।যদি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়, কিছুদিন পর্যন্ত কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। যেমন,সামনে ঝুঁকে কোনো কাজ করা যাবে না, ভারী কোনো জিনিস তোলা যাবে না, ভারী কোনো কাজ করা যাবে না, জোরে নাক ঝাড়া যাবে না, নাকে ঘষামাজা করা বা পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

More News

ক্যানিং হাসপাতলে সাফাই কর্মীদের বিক্ষোভ 

0
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহুকুমা হাসপাতালে অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি হাসপাতালে। এরফলে...

শিশুকে নিজের কাজে অভ্যস্ত করুন 

0
অনেক পরিবারেই শিশুদের নিয়ে অনেক ভালো মন্দ অভিজ্ঞতা হয়।বয়স বাড়লেও অনেক কিছু নিজের থেকে করতে...

নাকের অ্যালার্জি হলে 

0
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা নাকের অ্যালার্জি হচ্ছে অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। ধুলোবালি, ধোঁয়া, কিছু ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়াজাতীয় জীবাণু, ঠাণ্ডা-গরমসহ...