
দেশের বিচারব্যবস্থায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউএপিএ অর্থাৎ ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’-এর মতো কঠোর আইন থাকলেও, জামিনই নিয়ম এবং জেল ব্যতিক্রম,এই চিরাচরিত আইনি নীতিটি কিন্তু বদলে যায় না।
একইসঙ্গে ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র নেতা উমর খালিদকে জামিন না দেওয়ার যে নির্দেশ আদালত আগে দিয়েছিল, তা নিয়ে এদিন খোলাখুলি সংশয় প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং জাস্টিস ভূঁইয়ার বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ইউএপিএ আইনের ৪৩-ডি(৫) ধারায় জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্তাবলী থাকলেও তা সংবিধানে বর্ণিত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গ্যারান্টিকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র কঠোর আইনের ধারা লাগানো হয়েছে বলেই জামিন খারিজ করাটা কোনও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি হতে পারে না।বেঞ্চের মন্তব্য, আমাদের মনে কোনও সন্দেহ নেই যে, ইউএপিএ-র অধীনেও জামিনই নিয়ম এবং জেল ব্যতিক্রম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন উমর খালিদ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি দুই বিচারপতির বেঞ্চ। এপ্রিলেও তাঁর রিভিউ পিটিশন নাকচ হয়। সোমবার সেই আগের রায়ের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বর্তমান বেঞ্চ। আদালতের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু না করে কাউকে আটকে রাখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের যে নিজস্ব নির্দেশিকা রয়েছে, উমর খালিদের ক্ষেত্রে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।






