ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও সতর্কতা

0
136
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

বর্ষার শুরুতেই রাজ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় মারাত্মক হতে পারে।

গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান সেটাই জানান দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই জোর প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণত ডেঙ্গু বর্ষাকালের অসুখ। কিন্তু এখন শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। গত কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে বাড়ি, আঙিনাসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির জল জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা কিনা এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ। সুতরাং বর্ষাকালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবার সচেতনতা, সবার সহযোগিতা এবং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হল,ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ কী। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ২ ধরনের-ক্ল্যাসিক্যাল ও হেমোরেজিক, আর যখন ডেঙ্গু তীব্র আকার ধারণ করে তখন তাকে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলে। সাধারণত ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরে শরীরে প্রচণ্ড জ্বর,১০০-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত সেসঙ্গে তীব্র মাথা ব্যথা হয়। অনেক সময় ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দিয়ে আবারও জ্বর আসতে পারে এ ছাড়াও মাংসপেশিতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ এবং রুচি কমে যায়। জ্বর হওয়ার ৪-৫ দিনের মধ্যে শরীরে ঘামাচির মতো লাল লাল র‌্যাশ দেখা দেয়।ওদিকে ডেঙ্গুর জীবাণু শরীরের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফলে রক্তের প্লেটলেট কমে যায় এবং যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়ে যেমন, নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ, রক্তবমি, প্রস্রাব-মলের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। অনেক সময় বুকে, পিঠে জল চলে আসে এবং লিভার আক্রান্ত হয়ে জন্ডিস ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়।তবে ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ রূপ হলো,ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। হঠাৎ করেই রোগীর রক্তচাপ কমে যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দ্রুত নাড়িস্পন্দন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এমন হলে রোগী মারাও যেতে পারে।এখন প্রশ্ন হল,ডেঙ্গু হলে কী করবেন।ডেঙ্গুজ্বরের এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই ডেঙ্গুজ্বর ঠিক হয়ে যায়। তাই সচেতনতা ও সতর্কতা বাড়াতে হবে এসব বিষয়ে। মুখে খাওয়ার প্যারাসিটামল এবং বাচ্চাদের সিরাপ দিতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণ জল এবং তরল খাবার খেতে হবে। যেমন,লেবুর শরবত, ফলের জুস, ডাবের জল খেতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিতে হবে।

প্লেটলেট বাড়ে এমন খাবার যেমন,কাঠ বাদাম, দই, গ্রিন টি, ব্রোকলি, পালং শাক, বেদানা খেতে হবে।তবে ওপরের সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।