প্রাণঘাতী মেনিনজাইটিসের লক্ষণ

0
207
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

সাধারণতঃ বলা হয় মেনিনজাইটিস একটি প্রাণঘাতী রোগ। মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের চারপাশের আবরণে, মেনিনজেস সংক্রমণ বা প্রদাহের ফলে এই রোগ হয়।

এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের কারণে হতে পারে। তবে চিকিৎসা করাতে দেরি হলে প্রাণসংশয় হতে পারে। তাই এই রোগ দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণতঃ মেনেনজাইটিস হলে হঠাৎ প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হতে পারে।উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর এবং ঠাণ্ডা এবং ঠাণ্ডা লাগার অনুভূতিও মেনিনজাইটিসের অন্যতম লক্ষণ।ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দেয়, ফলে ঘাড় বাঁকাতে বা নাড়াতে কষ্ট হওয়া। একইসঙ্গে,শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। ফলে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে রোগী।ম্যানেনজাইটিসের লক্ষণ বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। ক্ষুধামন্দা, খাবারের প্রতি অনীহা এবং বমিভাব হতে পারে। আলোতে সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে রোগির। উজ্জ্বল আলোতে চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়। পাশাপাশি,মেনেনজাইটিস মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে রোগির বিভ্রান্তি বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।মেনিনজাইটিসের কারণে ত্বকে লাল বা বেগুনি র‍্যাশ দেখা যেতে পারে। কখনও কখনও শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয় রোগির।রোগীর খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে পড়ার আশংকা থাকে। মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে বিশেষ ভ্যাকসিন রয়েছে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসলে,ম্যানেনজাইটিস জীবাণুঘটিত রোগ। তাই নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশংকা কমে যাবে।এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খান।সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকুন। অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। মাথায় রাখতে হবে শরীরের জল কমে গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।এতে মেনেনজাইটিসের আশংকা বাড়ে। তাই ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জল পান করুন। আর,বাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। পোষা প্রাণীর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, তাই এদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

যদি এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দেয়, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। মাথায় রাখতে হবে মেনিনজাইটিস গুরুতর রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি নিরাময়যোগ্য। সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে এ রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে।