
হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় ৫ বছর পর ৪ দোষীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে তমলুক আদালত। ২০২০-র এই খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে রাজ্যে। তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৫ বছর ধরে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় ৪ দোষীকে সাজা দিয়েছে আদালত।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে মামলার মূল দোষী হলদিয়ার বাসিন্দা শেখ সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা রমার। সাদ্দাম এক সময় নিউ ব্যারাকপুরে থাকতেন। পরে বছর চল্লিশের রমা এবং তাঁর মেয়ে রিয়ার থাকার জন্য হলদিয়ার গিরিশমোড় সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া করেন। কিন্তু মায়ের সঙ্গে প্রেমের পর মেয়ের প্রেমে পড়েন সাদ্দাম। রিয়াকে বিয়েও করেন। বিয়ের পর রিয়ার নাম হয় জেসিকা। কিন্তু মা-মেয়ের জটিল সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন সাদ্দাম। এরপরেই খুনের পরিকল্পনা করেন। ২০২০-র ১৮ ফেব্রুয়ারি সাদ্দাম ও তাঁর তিন সহযোগী মা-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে গাড়িতে তুলে হলদি নদীর তিরে দুর্গাচক থানার ঝিকুড়খালি এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। ধোঁয়া দেখে স্থানীয় কাউন্সিলর ভক্তিপপ্রসাদ বালিদা লোকজন নিয়ে যাওয়ার গিয়ে জোড়া দগ্ধ দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এরপরেই একে একে ৪ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।




