
অতিরিক্ত কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত অস্থিরতা,সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু এই স্ট্রেস শুধু মনের ওপর নয়, শরীরের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে আমাদের খিদে বা খাওয়ার রুচি বদলে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে এই মানসিক চাপ।এখন প্রশ্ন হল,কেন খিদের ওপর প্রভাব পড়ে? উত্তর হলো,মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক একটি অংশ আমাদের শরীরের অ্যালার্ম সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।যখন আমরা স্ট্রেসে থাকি, তখন এই অংশটি কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেসের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে দুই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।যেমন,খিদে কমে যাওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেস ভেগাস নার্ভ-এর কাজ কমিয়ে দেয়, ফলে পেট ভরা না থাকলেও মস্তিষ্ক খাওয়ার সংকেত পায় না এবং খিদে মরে যায়।পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা,স্ট্রেসের সময় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির জন্য চিনি বা শর্করাযুক্ত খাবার দাবি করে।এ কারণে তখন চকোলেট, পিৎজা বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে।দেখা গেছে,দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এতে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না, যা ভবিষ্যতে ওজন বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে মেদ বেশি, তাদের মস্তিষ্ক স্ট্রেসের সময় আরো বেশি চিনিজাতীয় খাবার চায়, যা একটি দুষ্টচক্রের মতো কাজ করে।বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন,পর্যাপ্ত ঘুম। ঘুম আমাদের স্ট্রেস হরমোন রিসেট করতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব হলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে স্ট্রেস কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ক্ষমতা বাড়ে।জাঙ্ক ফুড দূরে রাখা,চোখের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার না রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নাগালের মধ্যে ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। তারপর সুষম খাবার,পিৎজা বা মিষ্টির বদলে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার,যেমন মাছ, মাংস, মটরশুঁটি এবং স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট,যেমন ওটস, ডাল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ওদিকে, সামাজিক যোগাযোগ, একাকী না খেয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে খাওয়া স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।মাথায় রাখবেন স্ট্রেস কমাতে মদ্যপানের অভ্যাস পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে, তাই এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।সব মিলিয়ে মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এর শারীরিক ক্ষতি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।








