
ভয়াবহ ভূমিকম্পে আফগানিস্তান যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে হাহাকার, আর্তনাদ। এদিক ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ। বুকফাটা কান্না নিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিকটজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন অনেকে। তালিবান সরকার ইতিমধ্যেই জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
একাধিক ভেঙে পড়া বহুতলের ধ্বংসস্তূপের অন্দর থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক মৃতদেহ।
দেশের নগরহর প্রান্তরে ৬ রিখটার স্কেল মাত্রার এই জোরাল কম্পনে শয়ে শয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। ভেঙে পড়েছে একের পর এক বহুতল। ফেটে চৌচিড় রাস্তাঘাট। রবিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ যখন আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষই ঘুমোচ্ছিলেন, প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বহুতল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই কম্পনের আকস্মিকতা কাটতে কাটতেই ২০ মিনিটের মধ্যে ফের একটি আফটারশকে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান। এরপর আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়। নগরহর প্রান্ত স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক আজমল দর্বাইশ বলেছেন, অসংখ্য মানুষের। মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যুই হয়েছে বাড়ি ভেঙে ধ্বংসস্তূপ চাপা পড়ে। প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, জালালাবাদ এবং আশপাশের গ্রামে মাটির বাড়ির সংখ্যাই অধিক।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলিকে ভর্তি করা হয়েছে।। কুনার প্রান্তেও হাল্কা কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে সেখানে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আফগানিস্তানের দুর্গম ভৌগলিক অবস্থানের জন্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছতে সমস্যায় পড়ছেন উদ্ধারকারীরা। ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার তীব্র কম্পন সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতি ছিল। ২০২৩ সালের ৬ দশমিক ৩ মাত্রার কম্পনে ১৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।








