গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

33 C
Kolkata
33 C
Kolkata
More
    Home Technology সাহারা মরুর ধুলায় বাঁচে অ্যামাজন

    সাহারা মরুর ধুলায় বাঁচে অ্যামাজন

    0
    11
    ছবি সৌজন্যে : এক্স

    হাজার হাজার মাইল ব্যবধান, মাঝখানে অতল আটলান্টিক মহাসাগর। একপাশে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উত্তপ্ত মরুভূমি সাহারা, অন্যপাশে প্রাণের স্পন্দনে ভরা চিরসবুজ বনাঞ্চল অ্যামাজন।

    আপাতদৃষ্টিতে এই দুটি ভিন্ন জগতের মধ্যে কোনো মিল না থাকলেও প্রকৃতির বিস্ময়কর ও গোপন সুতোয় এরা বাঁধা।প্রতি বছর সাহারা মরুভূমির প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টন ধুলো বালি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এসে পড়ে অ্যামাজনের রেইনফরেস্টে। অ্যামাজন বন বৃষ্টির জলের তোড়ে প্রতি বছর ঠিক যতটুকু ফসফরাস হারায়, সাহারার এসব উড়ো ধুলো ঠিক ততটুকুই ফসফরাস সেখানে এনে পূরণ করে দেয়।সহজভাবে বললে, হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় মরুভূমিটি প্রতিনিয়ত যে ক্ষয়ে যাচ্ছে,সেই ক্ষয়ে যাওয়া ধুলো দিয়েই বছরের পর বছর ধরে উর্বর হয়ে উঠছে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চল।এ বিস্ময়কর সত্যটি কোনো মানুষের তৈরি নয়। আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডল বিজ্ঞানীদের বাইরে খুব কম মানুষই এ রহস্যের খবর রাখেন। প্রতি বছর ঋতু পরিবর্তনের নির্দিষ্ট বাতাসে ভর করে সাহারা মরুভূমি থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টন সূক্ষ্ম ধুলো কণা আকাশে ওড়ে।বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ভেসে এ বিশাল ধুলোর মেঘ আটলান্টিক পেরিয়ে পশ্চিমে ছুটে চলে। এর মধ্য থেকে প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টন ধুলো ঝরে পড়ে অ্যামাজন অববাহিকায়।এ ধুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রায় ২২ হাজার টন খাঁটি ফসফরাস, যা অ্যামাজনের বেঁচে থাকার সঞ্জীবনী রসদ।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষের ২২ হাজার টন ফসফরাসের সংখ্যাটি।

    সাহারার ধুলো থেকে প্রতি বছর অ্যামাজনে যে পরিমাণ ফসফরাস জমা হয় তা অ্যামাজনের ঘন ঘন ও ভারী বৃষ্টির জলেতে ধুয়ে যাওয়া ফসফরাসের পরিমাণের প্রায় সমান, অর্থাৎ অ্যামাজন বনের এ পুষ্টির ভারসাম্য এর নিজের বৃষ্টিচক্রের মাধ্যমে থাকে না, বরং তা টিকে থাকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন জলবায়ুর এক মহাদেশ থেকে উড়ে আসা ধুলোর ওপর ভর করে।